Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Saturday, May 25, 2019

রবীন্দ্র গুহ



জীবনের মানে বেশিদিন থাকে না 


আত্মহত্যা করতে গিয়ে  জেগে উঠলো  প্রবল যোণলিপ্সা
আত্মহত্যা  করা হলো না --হাওয়ার  সাথে পাল্লা  দিয়ে 
হাওয়া  হয়ে যেতে  চেয়েছিলাম ---------
গভীর দুঃখ কষ্টে আটকে রইলাম আশ্চর্য টার্মিনালে 
ধর্মের কথা নয় , সঙ্গমের শেষে যে বীজমন্ত্র  উচ্চারণ করি 
                                                 তা  নিয়ে  মিথিক  চর্চা চলে 
বুক পকেটে কামুকাত্মা উঁকি  মারে , নারীদের নাভিতলে  তুমুল 
                                             বিশৃঙ্খলা , তরল বীর্য তালুতে শুকায় ----------
নষ্ট আত্মার নামে  বুর্জোয়াদের  যৌনপ্রতীক চিতামানুষ 
ভুল --মানুষকে  ভুলে যাবো  বলেই  ভিখিরি  হয়েছিলাম 
তুমি ভয় পেয়ে গেলে ----আমাকে  পালাতে  ভুল রাস্তা  দেখিয়ে দিলে 
সাদা  শূন্য বিছানায় অঢেল  হিংসা , ক্রোধ , তারুণ্যের আবেগ 
                                                           খর রোদে লুট হয়ে যায় ভুরু , ঠোঁট , বুক --------
                                                                                                  জীবনের বিস্ময়কর  ঘটনা 
উৎপটাং দিল্লি শহর------ নারী , শান কাঁচের ঘরে পদ্মাসনে  বসে  থাকো 
আমাকে  লাথাও , থুতু  ছিটিয়ে  ভাষা  বিনিময়  করো !

Friday, May 24, 2019

পীযূষকান্তি বিশ্বাস


চুড়ি টুটি



এইখানে লাঙলের পয়া বরাবর লাল ঠোটের ধবল বক,
আলের পাশে
চাষবাস যখন অযান্ত্রিক বৈদিক প্রাচীন
আকাশের থেকে উঁকিঝুঁকি দিলে পাপ্পানকালান
এই চানা ক্ষেত জুড়ে জোরাজুরি
রাধিকা ক্রমশ আসে এই একবিংশ শতাব্দীর
চুড়িটুটির মাঠ, এই ক্ষেত খামার জুড়ে এতটা কঙ্কর
লাল, ঝামা, রেত মিলে দেওয়াল উঠে গেলে আকাশচুম্বী
সদ্য পেরোনো সোলাংকী কন্যা পিঠে বেণী দুলিয়ে
দক্ষিণ দিশা বরাবর টেক-অফ করে যাওয়া ইন্ডিগো-বোয়িং দেখে
হলুদ রাই ক্ষেতের দিকে তার নিঃসংকোচ চুন্নি উড়ে যায়

এই সময় বয়স হলো যখন স্কুল যাবার, দমদমা লেক
পাখিদের আনাগোনা
উড়ে যেতে চাওয়া হাওয়া আর ললনার সদ্য বুকে জমে ওঠা সৌরভ
অথচ এই বর্ষার দিনে বর্ষা নাই
ঋতুর আগমন দিয়ে তেল দিক সরষে
নাগরিক জীবনের ক্লেদ ঘাম নিয়ে ঈষৎ লবণাক্ত ছোলার ক্ষেত
অপেক্ষারত জাঠ যুবক দিল্লির এক কড়ক লন্ডা
যার উপর দিয়ে ফাইবার অপটিক্সের কেবল
যার মধ্য দিয়ে অন্তর্জাতের আই পি প্যাকেট
যার  ভিতরে গুমটে রয়েছে সাইবার ভিডিও
যার দৃশ্যে রয়েছে পর্ণগ্রাফির কামশট
দ্বারকা সম্পূর্ণ পুনর্বাসন হবার ঈষৎ পরেই
গুটিকয় হোমো-সেপিইয়েনসদের আচমকাই মনে হলো
মাসকলাইয়ের লতানো গাছে আটকে গেছে নাবালিকা
রাধিকা সোলাংকীর ব্যবহৃত ছিন্নভিন্ন রেশম অন্তর্বাস


এতটাও তো স্বনির্ভর নয় এই জিন্দেগী
গল্পাশ্রয়ী এই মুকুন্দ ভিলায় পড়ে যায়
অন্য ভাষার অন্য কবিতা
রাস্তা, ইট, নালা ছাড়া এই ভিরানায় কবি কে বা
কংক্রিটের চাতাল ফাটিয়ে মহানিম ছাড়ায় যে ডালপালা
এই আঁধার ঘনিয়ে আসে শস্যখেত জুড়ে 
এই পাপ্পানকালানের শেষ নাগরিক হেটে যাওয়া অব্দি
দ্বারকার শেষ শস্য ঘরে যাওয়া অব্দি
সেক্টর আট থেকে সেক্টর বিশ
এক এপার্টমেন্ট থেকে অন্য এপার্টমেন্ট
মানুষের মাপে এই পৃথিবী দৈর্ঘ্য মেপে যাই
মানুষের মাপে এই পৃথিবী প্রস্থ মেপে যাই
মানুষ আর শস্যের দংগলে
মানচিত্রে বারবার বদলে আসে রং, রেখা, কনট্যুর
জন্ম থেকে জন্মে ঘিরে ফেলেছে নির্বাক চিত্রকল্প

শতজন্মের ভিতর থাকে যে সব অন্যরকম বলা
অন্যরকম ভাষার নতুন নদীমাঠ
সেই ধানিজমি, টিয়া পাখির ঝাঁক, ছোলার ক্ষেতের উপর
রাধিকা কোনদিন বিবাহযোগ্যার মত পূর্ণযৌবনা হবে
তার হাতে লাল লাল চুড়ি,
তার পরনে হালকা পাড়ে নীল শাড়ি
অথচ সে আজ কোন সোলাংকী ললনা
বারবার দেবরাজ বধূর মত কোন লাজুক
যে যেদিকে পারে আগুন হয়ে ওঠে
যে যেদিকে পারে মাঠ পুড়ে যায় অনর্গল
পুড়ছে  প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসা কোন রাই ক্ষেত হলুদ
ফ্ল্যাটবাড়িকে ছেড়ে দিয়ে ছাই হয়ে যাওয়া গাঁও
এই নগরীর আষ্টেপৃষ্ঠে মানুষের শৃঙ্খল,
যান্ত্রিক গল্পের সংরক্ষণে এই নগরীর পরিখায়
মৃত কোন সাতভাইদের হাড় কংকাল
কোন পারুল বোন বুঝি আর তাদের ডাকতে এলো না

এতটাই কি ছিলো তোমাদের এই মেরুন প্রিয়তা
কবিতার বইয়ের প্রচ্ছদের মতো সেজে উঠেছে প্রপার্টি ডিলার 
হরিৎ গমের ক্ষেতের উপর জোড়া শালিকের সংগম
তোমাদের অসহ্য মনে হলো
সবুজকে নিশ্চিহ্ন করে ইটের ইমারত
কোঠাবাড়ি, সুরম্য অট্টালিকা, হাইরাইজ ফ্লাটস
কাতারে কাতারে উৎপাদিত মানুষ আর শস্য
মানুষের পণ্য নিয়ে মানুষ বিক্রি করে মকান ডট কম,
মানুষ ইট হয়,
মানুষ চুন হয়,
মানুষ ইটালিয়ান মার্বেল
বৃদ্ধ সোলাংকীর মাংস, ঘাম, পুঁজ  লাশ পচে গেলে মিশিয়ে মাটিতে
উর্বর হয়ে ওঠে ল্যাটেরাইট
এই বর্ষা চলে গেলো, কোন বারীষ নেই
মানুষকে খাচ্ছে আজ লতানো বীরুত
অথচ
যে কোন সবুজের চেয়ে আর মাংসাশী মানুষের উৎপাদন বেশী

তবু যদি দেখো, গল্পের শুরু
তার চলন, বাঁকা বা স্পীড ব্রেকার
এই এক রৈখিক হাইওয়ের মত কোন যাত্রা
রাস্তার ঝাঁকুনি নিয়ে চালকের মনে সংশয়
কবির মনে বসে থাকা কোন চেতনায় তার সিনট্যাক্স ভেঙে যায়
কলাই থেকে চুড়ি ভেঙে যায়
সদ্য কৈশোর পেরোনো রাধিকা স্কুলে যায় সবুজ সালোয়ার কামিজে
তার সদ্য বুঝি আর পেরোয় না
তার সদ্য থামিয়ে দিয়েছে এই মে জুনের দিল্লি
এয়ারপোর্টের মেট্রো এই থমকে দাঁড়ালো ,
লো-রাইড বাস এই রুখকে
মানুষ আর কংকাল নিয়ে সমগ্র দ্বারকা
চারিদিকে ঘিরে আসে গম কেটে আগুন লাগানো ধোঁয়া
দূষিত নিঃশ্বাস-সহ দ্বারকা সেক্টর ওয়ান এক্সটেনশন
পালাম ফ্লাইওভারে সমগ্র ট্রাফিক আজ থমকে দাঁড়িয়ে...


এইখানে ফিরে আসা মানে,
ধনুকে ফিরে আসা তীর
লিখে ফেলা কবিতা থেকে চেতনা আলাদা করা
কবিকে মানুষ থেকে
মানুষকে কবিতার থেকে দূর
দ্বারকা এমন এক নগরী, যার কোন ফিরে আসা নেই
পিচের সড়ক থেকে ছোলার সবুজ ক্ষেত
এও তো যাত্রা
যার যদিও কোন ট্রেল নেই, সুতরাং
নাল এন্ড ভয়েড
কোন সদ্য বিধবা রাধিকার চুড়ি ভাঙ্গার পর
চুড়িটুটির এই মাঠে একটা কিংফিশার বোয়িং ভেঙে পড়লো বুঝি
এই কবিতা পাঠের নিমিত্তে 
দুপাতা সবুজ সহ কোন দূর্বাও বুঝি অবশিষ্ট নেই  !

অনুপম মুখোপাধ্যায়



মৃচ্ছকটিকম্‌ - ১টি পুনরাধুনিক কাজ


।।
পেখমে বাদাম আছে। চাপ দিও না। রং তোমার
ময়ূরে মাটি ছুঁইয়ে দেবে

তুমি যে কোথায় নেই তোমাকেই চাই
উত্তেজনা দিয়েছে যে ১টানা রোখ

এই আমার মাইফেল। গান
করে যেও

আঙিনা ফাটিয়ে রেখো নূপুরের ধুলো

ময়ূর কেবল নাচে ময়ূরী নাচে না
এ কোন নিয়ম হল বসন্তসেনা
।।

Thursday, May 23, 2019

কমল চক্রবর্তী




কমল চক্রবর্তীর কবিতা



এখানে জিরাফ থাকতো


 এখানে জিরাফ থাকতো ,জিরাফের দাদু ডায়নোসর

এখানে হাতিরা থাকতো
                  হাতিদের প্রিয়  ভিটামিন !
                  সঘন মেঘের  দল
                                ঝর্ণার  রঙ্গিন -দোপাটি ।

এখন মানুষ থাকে
                           ধু ধু  মরুভূমি
বেচারা মধুর লোভে , ছায়ার  গভীরে
                                           বনচোরা ভালু
কোথায় হারালো  দিশা
রাশিয়ার কালো মিসা
                          মৃত্যু বাসরে মধুবনী ।

    এখানে কোট রা  থাকতো
                                    শতশত বার্কিং ডিয়ার
                              বুনো  ছাগলের ক্ষণকাল
         পাতা ছেঁড়া , ফুল ঝরা , পশ্চিমের হাট !
এখানে বাঘেরা থাকতো , বাঘের প্রেমিকা
                                                   বন বিবি ,  দাদা দক্ষিণ  রায়
               বিজনে সাজানো থাক
                                             ঢোলা - কৃত্তিবাস ।
এখানে দ্বিমত থাকতো , বহুমত  রক্তের রেখা
                                     বারুদে সাজাতো  খেয়া
                                                           ইবন বতুতা !


 আমাদের ঘরবাড়ি

                    
  মনে রাখবে কী ,
                     আমাদের ভাঙাবাড়ি ?
এদিকে তাপ্পি , সূর্যের ঘোড়া !
ওদিকে তাপ্পি , পূর্ণিমা !
এদিকের  বেড়া নলখাগড়া !
ওদিকের  বেড়া  মনোরমা !
ভাঙা দিয়ে  ঢোকে গোলা পায়রা
                      ফুল ঝরে তারও এক কণা !
নয়া সড়কের পাশে বারান্দা
                             দালানের গায়ে  গলিঘুঁজি
              মাতালের দল ঢোকে টলমল !
                               নাঙ্গ হাঁকে , 'ওগো ফুল খুকি ! '
                                ঘরের দেয়ালে খেজুর  তিজেল
                                                       যুবতী র  মুখে লাল চুষি!
যে বাড়ি ব্যাপক !
যে বাড়ি নীরব !
যে বাড়ি রাতের  বানভাসি।




হে ব্যবধান !



সেবার শর্মিষ্ঠা ছিল !
এবার দেবযানী !
সেবার রাক্ষসী ছিল
এবার শাকম্ভরী !
সেবার মর্মরিত , উপগত
এবার মনোবীণা , নির্জলা -আশ্বিন !
সেবার ভবতোষ থেকে ফুল ঝরে ছিল
ক্যাওড়া , কাসুন্দি
কতিপয় লাল -গন্ধ রাজ!
এবার আশুতোষ থেকে
খোলামেলা , ডাহুক , তিতির , বুনো হাঁস
সেবার নর্মদা ছিল
গাড়ু গামছা , হিজল -তরণী
এবার কুয়োর জলে
মণিদীপা , সাতনরী, দশ অক্ষৌহিণী ।
এবার সুব্রত , রিমা , ড্যানিয়েল ,
দৃষ্টিহীন ভোরের গৈরিক !
এবারই প্রথম , হুলুস্থুলু
মুখোশের দিব্য -জন্মদিন!

Sunday, May 19, 2019

সঞ্জীব নিয়োগী


সঞ্জীব নিয়োগীর কবিতা

সঞ্জীব নিয়োগী





।।দ্বিধাহীন।।

মনে হয় একদিন দ্বিধাহীন দিব

আপাদমস্তক কাটা গাছ
এমন আচমকা পড়ে যাব
সমর্পিত
প্রার্থনায়
বিশ্রামের অতলে ভাসব

হৃদয়ে মাথার ভার ঢেলে দিয়ে যাব আশরীর

অন্য কারও মুখচ্ছবি
ছায়া ফেলবেনা মাঝখানে


।।নন-সার্জিক্যাল চিঠি।।

ঠোঁট মুছে এসো হাওয়া বেয়ে
রসতত্ত্ব মাঠে রাখা যায়, সুবিনীত অন্ধকার যেন

তবু এসো ঘ্রাণের সোহাগে

চিলের নজর জুড়ে ডানাঢাকা নবীন হেঁয়ালি
এই কথা আমিও তো বলি অন্য পথে

এসো, সাজুগুজু দৃশ্যমান হোক
দামামা তখনই বেজে ওঠে...


।।সময়।।

স্মৃতির বদলে কিছু উল্লম্ফনীয় হাতে আসে

হাত থেকে অন্য হাতে যায়

কিছু সিড়ি নিচে আর বাদবাকি উপরের দিকে চলে গেছে
ফুল হয়, সংকেতের মতো ফুটে থাকে

সমস্ত পৃথিবী জেনে গেছে

যেভাবে বেঁধেছ হাতে সময়-মাপক
হাত থেকে শুরু হয়ে হস্তান্তরে ছাপিয়ে উঠেছে

ছবিগুলো বিজ্ঞাপনে
স্মৃতির কানাচে
বিনিময়ে
থাকে...


।নিশি ডাক।।

লোভনীয় হাতছানি জমা করা থাকে...
কার যে কখন আসে বর্ষাদিন
কালো-গর্ত-টান

প্রাণের দোহাই দিয়ে আদরের ঘটা
ব্যবচ্ছিন্ন বাস্তবের গ্রহান্তর যেন
শেষ দেখা হতে পারে! পারে?
জমা-খরচের
ঋতু ভুলে থাকা যায়

কেবল কস্তুরি-ডাক ধ্রুব
ও আলাপে...


।।লতাগাছের আশা।।

সেন তো তোমারও নামে লেগে আছে
বনে বনে তুমিও তো হারায়েছ পথ
অতি শীঘ্র পড়ে যাওয়া বীর্যের কাছে
হাঁটু মুড়ে মিনতি করেছ

বেড়ে ওঠো লতাগাছ
বলিষ্ঠ ভরসা
মাথারেখে শুয়ে থাকো
রুটি মাংস কষা খাওয়া বুকে!

দেবযানী বসু



পুরোনো কবির কোড নাম্বার 


দেবযানী বসু



জন্মদিন, হ্যাঙারে ঝোলা কালোজামা
কালোজামের নৈকট্যে
বারোমেসে কোকিল বুকের
গরমদিনের চিহ্নে দাগাতে পারি না
দাগা পাওয়া পালকের বিজ্ঞাপন
সার্ফ এক্সেল দিয়ে ধুই
জাহাজের জলঢাকা আলোয় মুখ দুলে যায়
দেশে ফেরার পিছন পাতায় বয়ে আনি
মৃত গঙ্গার জন্য
মিসিসিপি মুসৌরির চোখের জল
ডলফিনের গগলসে দৃষ্টিদান করায়
কেউ আর আপনজন হয় নি



অচেনার সুখ

দুলছি আয়নার নিঃশ্বাসে
স্রোত কেটে ঝাঁকে ঝাঁকে টাকা ব্যয়ে যায়
বয়ে যায়
জামাপোড়া সংলাপ পাতাপাতুরি  মুড়ে রাখি
শতাব্দী পেরোনো চোখ বুজে এলে
আঙুলে ঘুলে দেয় নতুন জামা
দুঃখলাগা মুক্তি সাদাকালো ওড়নার ভেতর
ক্যামেরার গলা টিপে ধরেছে
রাধাভাসানো জল রাধাচূড়াদের খবর
পাছে ফাঁস হয়


চিনলে দুঃখ পাবে

পৃথিবী গিলছে সবাই। খাবারের আর্ষ প্রয়োগে দোষী ব্যালকনি। মাধবীলতার আগাছা জন্ম আর কর্ম। শেষ হয়ে এলো মাধবীলতার মৈথুন কাল। বাঁচতে চেয়ে ক্যামেরার চোখে হলুদ কাজলরেখা। জাহাজের গলাজলে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো সমস্যা নয়। নষ্টচোখেরা তার দেখভাল করে। বকওড়া পথে পড়ে আছে অন্তর্বাস। ক্যামেরার পিনহোল দিয়ে প্রসবিত হই বার বার।

কবিতাযাত্রা

কবিতাযাত্রায় অভিসার মনে হয় তিন পর্দা পোশাকের নিচে কিছু নেই। এই ভালোবাসার কোনো পর্নো হয় না। প্রশ্ন হয় না। মশারির খুঁট কবে কুতুবমিনার হয়েছিল। এখন সব নাটুকে দন্তমঞ্জন থেকে হেঁচকি অব্দি। নাটকের মুহূর্ত সব মুচমুচে। মেটে বাদামের ছাউনীভাঙা রোদ। ঘড়িয়ালী সম্পর্কে মরচে সেতুর গায়ে লালপেড়ে শ্লোগান। চাঁদনৌকা চব্বিশ ঘণ্টা  চলাচল করে কবিতাযাত্রায়। শূন্যভুক বৈ তো অন্য কিছু নই।


আগামী জীবন

ঠুং ঠুং ডাকটিকিট বাঁধা গলায়। পেরোচ্ছি তেপান্তরের লাইন অফ কন্ট্রোল। ফাটা মাটি কচ্ছপের খোলস পরতে চায়। স্ক্র্যাপবুকের ছবিরা আমাকে ঘরে ফেলে বেরিয়ে গেছে। লালপেড়ে নদীর ছুটে চলা শ্লোক ও শ্লোগানের শ্লো মোশন ভাবসাব বয়সের ব্যথা বেলে হাঁসের পাথর বুকে মিনারের পায়রা যৎসামান্য সংসার চিনেছে।একের সঙ্গে তিন ফিল্মবন্ধুতায় জুড়ে রয়েছে। মধ্যে রয়েছে একশো বছরের পিছিয়ে থাকা চৌরেখাবতী গুঁড়ি গাছের।রোদফোকাসের মাধবীলতা। কেটে কুটে বসিয়েছে শরীরে প্যাঁচানো সিঁড়ি।

ঔরশীষ ঘোষ

 

ট্যুরিজমের ব্যানার দেখি ঝুলে আছে গাছে


ঔরশীষ ঘোষ



গোপন সুড়ঙ্গপথ ধরে বয়ে চলেছি অনর্গল
এখন সমস্ত কিছুই ধূসর,  যেন এক মৃতের
শহরে পার করছি অসীম কালোয়
যেখানে উৎসব চলে, প্রেত আর পিশাচীর দল
গমগম করে সব বিলাসবহুল রুফটপে,
আমি যতবার ক্লান্ত চোখে সেইদিকে তাকিয়েছি
চিতার আগুন জ্বলে উঠেছে খুলির ভেতর
তখন দিল্লির আমোদ নিতে চলে আসি হজখাস
বা লোদী রোডের কোনও মামুলি রেস্তোরাঁয়
চিলড বিয়র সহযোগে সাহিত্যের দুর্দিন নিয়ে
আলোচনা চলে, দু-চারটে আহা উুহু, চুক-চুক,
অথবা মৃণাল সেনের মৃত্যু ঘিরে জমে ওঠে
গভীর আড্ডা, অন্যদিকে পাকিস্তান পিছু হটে
ভোটের বাজার এক্কেবারে গরম করেছে
এখন গ্রীষ্মের রুহু বাতাসেও যুদ্ধের গুজব
অসহ্য বমনেচ্ছা চেপে রেখে কয়েকজন কৃষক
ফুলের স্তবক তুলে দিল প্রধানমন্ত্রীর হাতে
নিউজ চ্যানেলে এই সব দেখতে দেখতে
নিঃশেষিত হয়ে যায় আরো একটি দিন
পাখির পুরীষ লেগে থাকে চশমার কাঁচে


এভাবে বাঁচার জন্য মেধার প্রয়োজন নেই
কত ধানে কত ক্ষেত, কত কাটা কত দরে
এসব সহজ আঁক কষে, কবি আর সম্পাদক কত
ডুব দিল মগজের অতল নীরবে
যেখানে চুলার আঁচ সেদ্ধ করে সমস্ত দ্রষ্টব্য
নেহাত বাঁচার জন্য জ্যান্ত হয়ে থাকা
ঘড়ি কাঁটায় ফু দিয়ে পার করে দেওয়া জন্মদিন

রাস্তায় জোকার সেজে ম্যাজিক অনেক দেখিয়েছি
নানান ভুলের পথ ধরে বিপথগামীর বন্ধু হই
এখানে শ্মশান ছিল গতকাল, আজ মাল্টিপ্লেক্স
এভাবেই গড়ে ওঠে  বিষাদ ও সভ্যতার ফুল

সেই ফুল ছিঁড়ে এনে রমণীর খোঁপায় সাজাই
চিরস্থায়ী হও তুমি শরীরে উল্কির মত
নদীমাতৃকতা ভুলে ধোঁয়ার কুয়াশায় হারিয়েছ
জীবনের ম্যারাথনে তোমার বিরতি ঘনঘোর


এমন জীবন চাই বন্ধু, আত্মঘাতে সহসা প্রস্তুত
গ্রেনেডের মালা গলায় জড়িয়ে চাঁদের আলোয়
ফিরে আসি খিদের গভীর কোনও খিদে নিয়ে
তখন ভ্রমের দেশে ভেসে যায় জখমি জাহাজ
সোহাগের লাল ছুঁয়ে তারও দাবী দেহ্‌লিজ
নুন আর পাথরের অবাক দুনিয়া
যেখানে
জলের গান
মিশে যায় মৃত ওষ্ঠ
থেকে ভেসে আসা ক্ষীণ গোঙানির সুরে


অথচ অবাক এই প্রলোভন
হাতে পায়ে বেঁধে রাখা নানারঙা সুতোর আগল
খাঁচার পাখির মত নিয়মানুবর্তিতায়
প্রতিদিন গাছের গুঁড়ির মত নিঃসাড় হয়েছি
এই শহরেই ছিল বাদশাহি আমোদের
কালো ইতিহাস... খুনি আর ব্যভিচারী
চাঁদ কি আজ এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে রাজী!
প্রতিটি তীর্থের পাশে জমা ভিখিরি ও বেশ্যার
অবৈধ আশ্রমে, আজ আমি কোন ধর্ম মানি প্রভু?
নরকের ফুল হয়ে তোমার বাগানে বিচরণ
করি কত কাল, শহরের সব অন্ধকারে দেখি
এক ছায়া... কুঁজো লম্বা একটা ছায়া,
চেয়ে আছে। আমার সমস্ত উৎসবে মিশে যাচ্ছে
তার চোখ থেকে ঝরতে থাকা লালা
যেন সবসময় কয়েকটি মাকড়সা জামার ভেতর
ছোটাছুটি করছে... যেন সূক্ষ্ম ইস্পাতের টানে
কেউ চিরে দিচ্ছে চোখের পলক


তবু দুরূহের মত এক অস্ফুট গোঙানি হয়ে
গলা চিরে উঠে আসে মদ আর রক্ত, এই ব্যর্থতা
বোবা আঘাতের মত চামড়ায় দাগ রেখে যায়
যেন চেন ছেঁড়া কুকুরের মত নিজের পেচ্ছাপের
গন্ধ খুঁজে আশ্রয় খুঁজছি, খাবার খুঁজছি, যত্ন...
তাই বারবার এই ফিরে আসা নতুন আড্ডায়
একে অপরের হাতে তুলে দেওয়া ফুল আর ছুরি
নতুন লোকের মুখে লেগে থাকা পুরানো বাড়ির
গন্ধ, চেনা রান্না আর অচেনা আদর দেখে
হাসিমুখে ফিরে আসা বন্ধঘরে, যেখানে রঙিন
কোনও ক্যালেন্ডারে আঁকা আছে ছুটির হুল্লোড়
এই তো ভ্রমণ... বাড়ি থেকে অফিসের পথে
ট্যুরিজমের ব্যানার দেখি ঝুলে আছে গাছে


এই রুখা শহরের রাস্তায় সূর্যের ভাপে মিশে আছে
কোনও অচেনা জন্তুর গর্জন, যেন প্রাচীন মিথের
পৃষ্ঠা থেকে উঠে আসা এক সহস্র মুখের সাপ
ছোবল দিচ্ছে বাতাসে। কাছে দূরে মুমুক্ষার ভিড়ে
আত্মহারা দাঁড়িয়েছি। অফিস আওয়ার ভুলে
মেলের পাহাড় আর টার্গেটের এভার গ্রোয়িং
কার্ভ ধরে চলে এসেছি শহরের হৃদপিণ্ডে...
চতুর্দিকে হট্টগোল... কেউ বলছে লেবু জল চাই
কেউ জানতে চাইছে ট্যাটু করাবো কিনা,
এক যৌনরোগের ওষুধ বিক্রেতা ও বেলুনওয়ালার
মধ্যখানে ঘুরপাক খাচ্ছি যেন একই টানেল ধরে
হিপহপে সাজা ম্যানিক্যুইনের দল পিছু নিচ্ছে
একজন খেলনা বিক্রেতা খাঁচার ভেতর রাখা
প্লাস্টিকের পাখির দাঁড়ে দিচ্ছে ছোলা আর জল
সে আমাকে ছুটির পথ দেখানোর নামে
সুসজ্জিত পাবের দরজার দিকে ইঙ্গিত করলো
ওই দরজা দিয়ে বেড়িয়ে আসতে দেখলাম
এক অল্পবয়সী রাশিয়ান এসকর্টের হাত ধরে
অতি কদাকার গুজরাটিকে, নির্ঘাত ওদের আজ
ছুটির দিন। এরপর যাকেই প্রশ্ন করেছি, কেউ
আমায় জি.বি রোডের দিকে যেতে নির্দেশ দিয়েছে
কেউ হাত দেখিয়েছি দরগার দিক। আমার
যাওয়া হয়নি কোথাও। ম্যানিক্যুইনের মিছিল নিয়ে
আমি ঘুরে চলেছি সেন্ট্রাল পার্কের চতুর্দিকে
এক সম্মোহিত জানোয়ারের মত

কিন্তু কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছি না
কিন্তু কিছুতেই হারিয়ে যাচ্ছি না
শুধু ছেঁড়া লিফলেটে এঁকে রাখা কোনও
নিখোঁজ মানুষের মুখ হয়ে ভেসে যাচ্ছি হাওয়ার ধাক্কায়।

রেখা নাথ

 

পাঞ্জাবী সাহিত্যে প্রথম জ্ঞানপীঠ পুরস্কার বিজয়িনী - অমৃতা প্রীতম

রেখা নাথ


অমৃতা প্রীতম বিংশ শতাব্দীর পাঞ্জাবী ভাষার একজন প্রখ্যাত কবি ও লেখিকা । একশোরও বেশী তাঁর কাব্যগ্রন্থ । কবিতা ব্যতীত তিনি আত্মকথা,প্রবন্ধ,গল্প ও উপন্যাসও লিখেছেন । দু-তিনটে ব্যতীত তাঁর সব বই হিন্দী ভাষায় অনূদিত হয়েছে । কয়েকটি অন্যান্য ভারতীয় ভাষা ব্যতীত তাঁর লেখা রুস,জার্মান ইত্যাদি ভাষায় ও অনূদিত হয়েছে । তিনি প্রথম মহিলা কবি ১৯৫৬ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারে সম্মানিত হন । ১৯৮১ সালে জ্ঞানপীঠ পুরস্কারও পান । তাঁর "কাগজ তে ক্যানভাস"; কাব্যগ্রন্থের জন্য । তিনি পাঞ্জাবী সাহিত্যে প্রথম জ্ঞানপীঠ বিজয়িনী এবং মহিলাদের মধ্যে দ্বিতীয়, দিল্লি নিবাসী ছিলেন । ১৯৫৮ সালে পাঞ্জাব সরকারের ভাষা বিভাগ দ্বারা পুরস্কৃত হন । ১৯৬১ সালে সোভিয়েট সংঘের নিমন্ত্রণে বুলগেরিয়া যাত্রা করেন । ১৯৬৯ সালে পদ্মশ্রী ও ২০০৪ সালে পদ্মবিভূষণ সম্মানে তাঁকে ভূষিত করা হয় । ৩১শে অগস্ট ১৯১৯ সালে গুজরানওয়ালয় (পাকিস্তান) জন্ম গ্রহণ করেন। শৈশব তাঁর অতিবাহিত হয় লাহোরে । পড়া-লেখাও তাঁর লাহোরেই সম্পন্ন হয় । কৈশোরাবস্থা থেকেই তিনি কাব্যচর্চা আরম্ভ করেন । ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের সময় পাকিস্তান থেকে ভারতের লাহোরে চলে আসেন ।

যৌবনের প্রথম উন্মেষকালে প্রেম ও যৌবনের উচ্ছল মাদকতায় পরিপূর্ণ যে কাব্য মদিরার আস্বাদন তিনি পাঠকদের করিয়েছিলেন তা পরিণত সময়ের প্রবাহে আরো ধীর,স্থির ও সংযমী হয়ে ওঠে । "কাগজ তে ক্যানভাস" কাব্যগ্রন্থে তাঁর উত্তরকালীন প্রতিনিধি কবিতাগুলি সংকলিত হয়েছে । গহীন, গভীর ও বিষাদময় এই কবিতাগুলিতে যুগ-যন্ত্রণায় বেদনাহত মানুষের দীর্ঘশ্বাস । ভারতীয় জ্ঞানপীঠের প্রাক্তন ডাইরেক্টার শ্রী লক্ষ্মীকান্ত জৈন অমৃতা প্রীতমের রচনা সম্পর্কে বলেছেন – নারীর শারীরিক,মানসিক ও ভাবগত সংরচনার প্রত্যক্ষ জ্ঞান ও অনুভব কে অসাধরণ পরিস্থিতির মধ্যে টেনসন, সংঘর্ষ ও উদ্দাম প্রেমের সহজ আবেগের অভিব্যক্তি কে কুন্দনে পরিণত করেছে তার কৃতিত্বের সমীক্ষা ধমনীর রক্ত ও হৃদয়-স্পন্দন দ্বারাই সম্ভব ।


অমৃতা প্রীতমের চারটি কবিতা –


এক টুকরো রোদ্দুর ( কবিতাঃ ধুপ কা টুকরা )


আমার মনে আছে সেই সময়
যখন এক টুকরো রোদ্দুর
সূর্যের আঙ্গুল ধরে
অন্ধকারের মেলা দেখতে
দেখতে ওই ভিড়ে হারিয়ে গেছে কোথাও
ভাবছি, ভয় ও নিঃসঙ্গতার একটা সম্বন্ধ আছে।
আমি তার কেউ নই
কিন্তু সেই হারিয়ে যাওয়া বাচ্চা
আমার হাত ধরে নিয়েছে।
তোমাকে কোথাও পাই না
হাতটাকে স্পর্শ করছে
একটা ছোট্ট কিন্তু তপ্ত শ্বাস
না হাত দিয়ে যাচ্ছে সামলানো
না ছাড়ছে হাতটাকে ।
অন্ধকারের কোনও পার নেই
মেলার কোলাহলের মধ্যে
এক নিস্তব্ধতার আবেশ
আর তোমার স্মৃতি যেন
এক টুকরো রোদ্দুর ।
(চুনী হুয়ী কবিতায়েঁ )

দুর্ঘটনা ( কবিতাঃ হাদসা )



কালের আরি হাসছিল
ঘটনার দাঁত ছিল তীক্ষ্ণ
অকস্মাৎ একটা পায়া গেল ভেঙ্গে
আকাশের চৌকি থেকে
কাঁচের সূর্য পড়ল গড়িয়ে
দু চোখে ছিতরে গেল বালিকণা
জখম হল নজর
কিছুই যায় না দেখা ।

আত্মমিলন

অমৃতা প্রীতম

আমার শয্যা হাজির
কিন্তু জুতো ও কামিজের মত
তুমি নিজের শরীর খুলে
ওই দিকে মোড়ার ওপর রেখে দাও
বিশেষ কোনও ব্যাপার নয়
কেবল নিজ নিজ দেশের রেওয়াজ মাত্র ।
(চুনি হুয়ি কবিতায়েঁ)

নিস্তব্ধতার ষড়যন্ত্র

অমৃতা প্রীতম

রাত্রি ঝিমোচ্ছে
কেউ একজন মানুষের হৃদয়ে সিঁধ কেটেছে ।
যে কোনও চুরির থেকে ভয়ংকর এই স্বপ্নের চুরি

চুরির নিশান
প্রতিটি দেশে প্রতিটি শহরে প্রতিটি রাস্তায় বিদ্যমান
কিন্তু কোনও চোখই দেখে না , না চমকায়
কেবল একটি কুকুরের মত শেকলে বাঁধা

কখনও কোনও সময় কেউ হয়ত কবিতা আওড়ায়
( কাগজ তে ক্যানভাস)

কৃষ্ণামিশ্র ভট্টাচার্য

 কৃষ্ণামিশ্র ভট্টাচার্য

আরবান সাগা

 

গাছেরা বীজ প্রসব করলে হাওয়া কোল পেতে দেয়;
শা বুলবুল আমুয়া ডালে হ‍্যাপি বার্থ ডে বলতেই
রেল গাড়ির গমগমে চাকা মাড়িয়ে দেয় ধানজমি,পুতুলের খেলাঘর
বৃষ্টি দের শহর
মেঘের স্তন ছিঁড়ে নেয় প্রপেলারের রাগী নখ
ইষ্টিকুটুম পাখি জ্যৈষ্ঠের রোদে ষ্টেশন ভাঙে
দুধ পাতিল,পয়লা পুল,গামারি--
শনবিলের বুক চাপা জলে ডাহুকের
ঘুম ভেঙে যায় মাঝরাতে
বারুদ ঠাসা নল ভেঙে দেয়
জল বায়ু মাটির পাঠশালা গুলি
হাঁস মুরগি র রোদেলা বাগানের ঝাঁপ ঠেলে কুসুম বৌ পরজে আওয়াজ তোলে
চাঁদ কপালি ছাওয়াল অইছে গো
ও ঠাউরাইন--
কে যেন ডাকাত মারার মাঠের দিকে যায়
কে যেন ভুবন ডাঙার মাঠের দিকে যায়
কে যেন বাল্মীকি র তমসার দিকে যায়
লা লা লা ডি লা গ্র্যান্ডি--
গিজতা গিজাং
চড়কের মাঠে বনবন উন্মাদ জনতা
পানশালার ক্লসেটে আটকে আছে দ্রৌপদীর ম্যাজিক শাড়ি
সীতা গেছে বনবাসে
দুঃশাসন সিংহাসনে
স্বপ্ন গুলো কংক্রিট মিনারে আকাশ ভাবে
চো কিৎ কিৎ খেলায় ভীমের তেল চুকচুক শরীর বারবার পিছলে যায়
মেধা আটকে আছে সিমেন্ট এর পোলে
কালো থিকথিকে বমির সাথে উঠে আসছে ড‍্যামেজড্ লিভার ছেচা আ্যলকোহলিক রক্ত--
আইবল বেরিয়ে আসছে সকেট থেকে
মায়ের খোকা কখন কোথায়
হারিয়ে গেছে
মানুষ হারিয়ে গেছে
লবণাক্ত সমুদ্রের
পাতাল ঘরে
নেই মানুষে
নেই ভুবনে
নেই সময়ে।

গাঢ় ঘুম রাতে যমুনার জল ঠোঁটে ঠোঁট রাখে চাঁদ
কালো শাড়ির ভাঁজে জমেছে বিষ
গণধর্ষণে স্বপ্নের গুড়ো গুলো মুছে গেছে
শেষ রাতে র শেষ ট্রেনের জানালা থেকে ছুড়ে ফেলছে ডাবের খোলা
হুইস্কি বোতল
প্লাস্টিকের ঘেমো গন্ধ
কাবাবের হাড়
পচা গলা নাবালিকা শরীর
যে শরীর এখনো
শরীর হয়নি
কাঠবিড়ালি র চুলের গোছায়
লেগে আছে যোনি ভাঙা রক্ত
জলের বোতল স্কুলের ব‍্যাগ টিফিনের চিকেন ললিপপ
হাতের চেটোয় বালিকা সময়
শিশু গাছ, শিরিষ পাতার ঝরা
আবর্তে সারাটা দুপুর
বাজির ঘোড়ার মতো ছুটছে
আইটেম গার্ল
রেপিষ্ট ইন্দ্রপ্রস্থের মর্মর আসনে
যাঞ্জসেনীর করতলে সজারু র ঘুঙুর
খান্ডববন পুড়িয়ে নগর ইন্দ্রপ্রস্থের ভিত্তিপ্রস্তরে
লেখা থাকে না নিহত বৃক্ষ হরিণ খরগোশের বংশ তালিকা
রেল ইয়ার্ড গালে হাত দিয়ে ভাবছে
কোনদিকে যাব
কে সিগারেটে আগুন দিয়ে জ্বলছে চিতায়
জ্বলছে কবি র লাশ
নিগম বোধ তুলসী নিকেতন এর
গুমসুম শ্মশানে
হাওয়ায় লাট খাচ্ছে কবিতার
ম‍্যানাস্ক্রীপ্ট।
রোজ গার্ডেন এ রাষ্ট্রপতি ভবনের রঙিন ফোয়ারায়
সন্ধ্যাতারা তানপুরায় পূরবীর তানধরে
নেহেরু প্লেসের মেট্রো ষ্টেশনে, ফুডকোর্টৈ
তীব্র বলিউডি র‍্যাপ আর সেক্সের
ককটেল
কারা যেন নক্ করছে সাব ওয়ের বন্ধ দরজায়
স্ট্রিট পারলারে গাছেদের শরীরে
ঝাঁ চকচকে আলোর গয়না
গাছের চোখের জল নদী হয়ে
যায়
হাই রাইস বাড়ি হবে তাই
গাছেরা শহীদ
নদী হয়ে যাচ্ছে রাস্তা
রোবট এপার্টমেন্ট।ডিজিটাল পশ এনক্লেভ।
কঙ্কাল সভ্যতার বিউগল
অন্ধ নগরীতে অন্ধ ভিখারি
টিনের থালা পাতে
সেনসিটিভ বুলশিট।
এক হাজার জাহাজ বোঝাই বুলশিট
উড়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে
পারলিয়ামেন্ট এর
সদর রাস্তায় বাজারে
আই আ্যম ডায়িং এট মস্ক
আই আ্যম ডায়িং এট সাইনাগগ
আই আ্যম ডায়িং এট টেম্পেলস্
আই আ্যম ডায়িং এট চার্চ----
হোয়ার এম আই??
আই আ্যম এভরিহোয়ার
বাট
আই আ্যম নো হোয়ার--

দেবার্ঘ্য দাস


তারপরে...

দেবার্ঘ্য দাস


(১)

সেইভাবে বলা যেত
পৃথিবীর ভিতরেই হয়ত নতুন কোন দেশ খুঁজে নিয়ে চড়ুইভাতি করতাম
কাঁটাতার-জলপাহাড় পেরিয়ে খড়ের চাল
কাজললতায় আরও একটু বেশি উজ্জ্বল দেখাবে তোকে
ভাতের থালায় কান্না জমে থাকবে, নুন আনতে পান্তা ফুরোবে না।
লাল বারান্দায় অপেক্ষা থাকবে মিশে
মেঠো পথ বেয়ে শ্রাবণ আসবে বেশ জোরেই
বৃষ্টি মাখা আদরে ফের তুই আর আমি ধোঁয়া গন্ধ ভ্যানিশ...
কিছু বন্ধুরা আসবে
শহর থেকে বেরিয়ে বন্ধুর পথ দিয়ে স্মৃতিপট জমাটি
বাসি ওয়াইন আর পুকুরের মাছভাজা দিয়ে হরেকরকম আড্ডা
মাতাল হয়ে গান ধরব "take me on a trip ypon your magic swirlin' ship..."
সবাই ফিরে যাবে তারপর ফিরে আসার জন্য
আবার কাঁটাতার
জল,পাহাড়, মনকেমন -
খয়েরি জানলা হলুদ সকাল
ফিকে হয়ে আসা
ডায়েরির পাতা
অনেক প্রশ্নের ভিড় কাজললতায়;

সেইভাবে যদি বলা যেত
তোর আমার নানা রঙের সংসার।


(২)


বন্ধুদের ডাক ফিরে আসে
আরেকটা সাদামাটা রাত্রি চলে যাচ্ছে জোনাকির রঙে
তুমিও আছো বাদবাকি অগোচরে
হেসে হেসে বৃষ্টিজল আমায় ধুয়ে দুতে চায়
আদিম অরণ্যের শূন্যতায় পিয়া পিয়া ভেসে আসে।
কোথায়? কেন? কিসের খোঁজ?
মনকেমনের অছিলায়, রান্নার অজুহাতে
ক্লাস পালানোর সবকিছু থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া- কাঁহে সাঁতায়!!!

নিরুদ্দেশের ঠিকানা লেখা হয়নি
ম্যাগাজিনের ডেডলাইন ওভার
আমিও শুরুর থেকে শুরু করার অভিপ্রায়-হরফ বদলে যাই
গন্ধ সেই এক থেকে যায়


(৩)

ভরদুপুরে ছায়ার সঙ্গে পা মিলিয়ে
এগিয়ে যাওয়া অজানায়। দূরে লংশটে আটকে যাচ্ছে কার্নিশ মাখা ইলেকট্রিক তার। সরু হয়ে আসা  রাস্তা, ভুল হয়ে যাওয়া আবদার।
মেপে নিতে চাইছি তোমার বলিরেখা ক্লোজআপ ফ্রেমে তোমার মুখে ফুটে ওঠে স্পষ্টতা। যা কিছু ধোঁয়াটে সবটাই আবছস গ্রে কালারড!
ফোর গ্রাউন্ডে আমাদের কাছাকাছি ভ্যানিশ হয়ে যায় আস্ত চিলেকোঠার ঘর।
সিন ওয়াইন থেকেই সাবপ্লটের রেশ... বাউন্স হয়ে লাফিয়ে যাচ্ছে ধরতে চাইছে
তবুও
সময়ের খামে ক্যালেন্ডারের হিসেব নিকেশ
অন্য ফ্রেমে থাকতে পারে
বিষণ্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরে বাজতে থাকুক।
মুনলাইট সোনাটা কিংবা 'হ্যান্ড ক্যান নট ইরেস'
আহত পাখির-
নাবিকের কম্পাস থাকুক বাদবাকি ডালে ঝোলে অম্বলে
ওয়ান লাইনার গুলো মনকেমনের স্নানাগার
দেওয়ালে বাষ্প জমে
শুরু শেষ একইসঙ্গে
ঘুম নেমে আসে কালো পর্দায়।

তৃণা চক্রবর্তী

 

জন্মান্ধ

তৃণা চক্রবর্তী


কোনও কিছু বদলে যাওয়ার নয়
হাওয়া বলছে সে কথা
যারা তোমার সঙ্গে কথা বলছে
এগিয়ে দিচ্ছে কমলা রঙের বন্ধুত্ব
উজ্জ্বল রুমালে রাখা নক্ষত্র
তুমিও তখনকার মতো বাড়িয়ে দিচ্ছ হাত
কথা রাখার দিকে...
ভেতরে বন্ধ দরজার রং
সমুদ্রের ধার, হেঁটে যাচ্ছ দূরে কোথাও
আগলে রাখা মন্ত্র ফেলে দিয়েছ হাওয়ায়
মাস্তুল ভাঙা কাঠের টুকরো ভেসে যাচ্ছে জলে
ছায়া এসে হাত রাখছে কাঁধে
আর তুমি এক জন্মান্ধ
ক্রমাগত যুদ্ধ করছ তারই সঙ্গে

দিলীপ ফৌজদার

 

স্মৃতিরিক্ত বাণপ্রস্থের  এই খসড়ায়

দিলীপ ফৌজদার



বাণপ্রস্থের  কথা আসতেই তো 
খুলে  গেল তোরঙ্গের ডালা
না , জং ধরেনি একরাশ ন্যাপথলিনের গন্ধ
পুরোনো ম্যাগনেটিক টেপের ক্যাসেটে
বিবর্ণ এ্যালবামে থম  মারা ছবিরা
আর অগোছালো চিরকুটগুলিতে
জমিয়ে রাখা  টুকিটাকিতে  নানান
অজস্র  সংবাদ।

নিজেকে দেখার কত প্রক্রিয়া--
একটা তো নিজেকে সরিয়ে রাখা 
দরজাহীন কুঠুরিতে  কিম্বা শামুকের খোলে
অথবা অবিশ্বাস্য নগরযাপনেও

কেউ জানে না কখন বাসে উঠি কখন  নেমে  যাই

কেউ জানে না কেন কথা রাখি না
দেখা করার অঙ্গীকার  ভেঙ্গে
রেস্তোরাঁর  মুখ  থেকে ফিরে গেছি কতবার
কতবার কতজনের বসার  ঘর  থেকে উঠে এসেছি আর ওমুখো  হই নি
যে আচরণের একটাতেও অসম্মান ছিল না
সব আয়নাতেই নিজেকে  দেখতে চেয়েছি
আয়না গুলোয় আঁটে নি চেহারা
আয়নাগুলো তোলে নি  চেহারা
ক্ষোভ নেই     হতাশাও  নেই
তুমি যতবার  ফিরিয়ে দিয়েছ বা পিঠ  ফিরিয়েছ

ভালোবাসা  নেই ভেবে নিয়ে রাতের ঘুম হারাই নি  ভালোবাসা আপনাআপনিই এসেছে_ _
ছেড়ে যায়নি কখনই

শুধু সময়টা ধরা থাকে  নি 
আর তোমাকে কতবার ফিরিয়ে দিলাম
একবার, দুবার , তিনবার ......অজস্রবার__
হয়তো !
তোরঙ্গের চিরকুট সাক্ষী
প্রেমপত্র একবারই  ছিঁড়েছি জীবনে
বন্দুকের নলের তলায় উবু হয়ে বসে ছিঁড়েই
চিনেছি নিজের পাপী চেহারা
কাপুরুষ ! ভীরু !

ওমনি কটা  ক্ষোভ তারা  তোরঙ্গে নেই

তোরঙ্গ বন্ধ  করতেই হৃদয়চেরা  তন্বী তলোয়ারের ফলা
ব্যালে  নাচ  দেখায়
তখন  নিজেরই  শব্দহীন রক্তক্ষরণ দেখে
খুব আরামবোধ হয়
সারা  অঙ্গে ছড়িয়ে  যায় আসে _ আসে _ আসে
নদীর ধারায় লাল রেখা টেনে আনন্দ ও ছাড়
নীল হাঙরের অমন লাল চোখ উপেক্ষায় হঠিয়ে আচমকা তুমি ধরে ফ্যালো হাত

কোন জেদ রাখিনি একা থাকতে চেয়ে
যতই সঙ্গ দিতে চাও, একাই তো।

বোঝা গুলো সব  নেমে গেল একে একে
তখন আমিও পাহাড়ের তলদেশে এসে গেছি
আর  উঠবো  না জেনে তাও দ্যাখো -
আবার চড়াই  চড়ি
উৎরাই এ নামি
এমনিই তো চলে  এসেছে, এমনিই  তো চলে
তুমি থাকলে বা না  থাকলেও
আমি যতদিন  আছি ততদিন  চলায় বা স্বপ্নে
কাল্পনিক জাহাজে
স্পেসক্রাফটে
ডিঙ্গিতে বা
এক কুরসির উড়ন্ত চাকতিতে

এই  একা একা  থাকাটাও
- তুমি থাকলেও -
ছুঁয়ে থাকার মত
সঙ্গ দিচ্ছি এই সন্তুষ্টিতে
আর সেই ছোঁয়ার
স্রোত ধরে ধরে কত ওঠা কত নামা
হাসপাতালের দরজায় অপেক্ষা ও নিষেধের তর্জনিতে
মেলার নাগরদোলার অস্থির উল্লাসে
মন্থর ট্রেনের দুলুনিতে।

তুমি ভেবেছিলে আমি তোমার কাছে আছি
তাই তো চেয়েছিলাম।

তোরঙ্গটা  বন্ধ করলাম

তোমার মুখোমুখি হওয়ায় লজ্জাতেই
স্মৃতিচারণ আমাকে মানায় না 
আমার চলাফেরা
দেহভাষা
কেউ
স্মৃতিকে জায়গা দেয় না

তুমিও এলে জমি দখলের প্রত্যয়েই
আমার সম্বিৎ ছিল
সব কথা
মুখে বলে দিতে হয়না
শূন্যতা নিজেই টেনে নেয় পলিমাটি
পায়ের তলাকার
আস্থা
নীরবতার শব্দহীন গান।

তুমি এর কোন
একটা নও
তুমিই এই সবকটা মিলিয়ে একটা
আবার সবকটাকে সরিয়ে রেখে
শুধুমাত্র তুমি
সেও একটাই
কোন কিছুরই দুটো হয় না
জায়গা থাকলে সবাই এসে যায়
গেড়ে বসে আবার মিলিয়েও
যায় সেটাও
সেই
জায়গার অভাবেই  তো

ভেবে অবাক হই
সবকিছু মেনে নেওয়ার
চলতা  হ্যায় বোঝাপড়া এ
কেলোর  কিত্তি আমরই আত্মজীবনীর  হিসসা।
চিন্তাকে আয় ঘুম যায় ঘুমের ভাঁওতা  দিয়ে পালিয়ে
মধ্যরাত্রের  হুল্লোড়ে  আমিই শামিল
হয়েছিলাম
ভেতরে যত শব্দ ছিল
তার কোন মানে লেখা ছিল না
কোনো ডিকসনারিতে  কিন্তু
চুলবুলে অত নারীপুরুষ
কেউ কি নিজেকে
আবদ্ধ ভেবেছিল
অতো আবর্জনাশব্দে
ওপানীয়দের  মিশ খাওয়া সংকরণে 
দূষণে
শরীরী  মেলামেশায়।

মস্তিষ্কে অতো 
অতিক্রমনের ঘোলাটেপনা
টলায়মান অঙ্গ স্বতঃস্ফূর্ত উনপঞ্চাশ  বাতাস টেনে কুপচিময় ধুমতামাকে চোখের বালি

আবার সুধীজনের আসরে
সুশীলসমাজের দায়বদ্ধতায়
নিজেকে লুকিয়েছি  যথাযথ  জামাকাপড়ে
তারও কতো  বহুরূপী বাহার
চিন্তার জারকে  শোধন করা
রকমারি কুর্তা শার্ট কোটের প্রতীপে
পাজামা -জিনস -ট্রাওজারের জটিল রচনায়
কেউ জানেনা  ভেতরে ভেতরে কত চলতে থাকে নদী ও সময়ের কোলে
পারাপারের মতলব আঁটাআঁটি
এরাও  তো আত্মজীবনীর অতি আবশ্যিক উপকরণ
কত পুঁথি পাঠ হলো আত্মজীবনীর নামে 
কতো বন্ধুত্বের ড্রয়িংরুম সাহিত্য আড্ডা
আত্ম প্রচার করে বেড়ানোর 
বিবিধতা সত্ত্বেও এত পুনরাবৃত্তি
যে কান পচে গেছে



বাণপ্রস্থে  যাবার  সময়কালে
সম্পত্তি ভাগাভাগির  ব্যাপারটা 
একটা নাটকহীন প্রস্তাবনাহীন অবস্থায়
ক্রিয়াপদের পা বাদ দেওয়া  যেন বা
রাত্রিবাসের প্যাঁটরা হাতে বেরিয়ে পড়ার মত।

জুড়িয়ে  আসা  কথারা ঘুমিয়ে পড়লে
তাদের না জাগিয়ে বা
জাগানোর স্পৃহাকে  লাগাম দিয়ে
রাস্তাটা আঁচ করে নেওয়া  বারবার

নতুন-কখনই-নয় রাস্তারা
কাঁকরে
গুল্মে
ভেষজগন্ধে
টেনে নিয়ে যেতে থাকে

আশ্বাসগুলোয়
হতে পারে নতুন বলে কিছু হয় না
কিন্তু আমি যদি
দেখেও না দেখি।

ততদিনে সংসার বলতে তলানি কিছু থাকলেও সেটা রান্নাঘরের স্খলিত
বাসনদের ঝিঙ্কার
বিরক্তি কিম্বা প্রতিবাদের মাও নয়
লকারের বহুমূল্য
গাম্ভীর্যও নয়
তোমাকে কিছু বলে যেতে চাই নি
সংস্কারের জং লাগা
জাহাজ কিনব না বা ভাড়াও
করবো না মৃত্যুর সাজগোজ
মৃত্যুর জাহাজ দেখতেও যাবো না কোন
গুরুগিরির  আখাড়ায় ওটার দরকার
পড়ে না  বলেই
মৃত্যু সে এমনই স্বতোৎসৃষ্ট 
সে সময়ের মতোই 
অবয়বহীন নিরপেক্ষ

                      শরীর যতক্ষণ আছে  ততক্ষণ         ক্ষিদে তেষ্টা  আছে
                      মন যতক্ষণ  আছে  ততক্ষণ  চাওয়া পাওয়া আছে
                       ইন্দ্রিয়েরা  যতক্ষণ  আছে  ততক্ষণ  সাড়া  আছে
                         বোধ যতক্ষণ  আছে  ততক্ষণ  আলো আছে
কবিতাও আছে
ছবিও  আছে 
গান ও  আছে

ওগুলোতে  আয়না  নেই
তোরঙ্গ নেই
জল বাতাস নেই
কিংবা ওগুলো নিহিত  আছে
সমস্তই
সম্পূর্ণ  ভুবন
যেটা  ঠিক আমার মাপের   আমার পছন্দের
যেটা আমার
যাবতীয় চাহিদা  মেটানোর উপায়
তাতেই নিহিত

আমার এই অবধারিত বন বাস
এ আমার পূর্ব নির্ধারিত ললাটলিখন 
তুমিও।

আসলে কোথাও  যাই না
থাকিনা  কোন  স্থাণু কুঠুরিতে
ট্রেনের মতো কামরাগুলো
চলন্ত
ওটা সময়
আর সর্বক্ষণ আমি তার  সঙ্গে
ওর  মতই
অবিরাম, নিরবধি
এই  আমি 
সেখানে আরম্ভ বা শেষ কেনই বা দেখতে যাবো

তোমার শীর্ণ চেহারা  আমাকে নিরস্ত করে  না কখনো  যদি ঐ  বোঝা
নিয়ে পাহাড় ডিঙোতে হয় তাও , সেটাও আমার ধরে রাখা আছে , এটা
কি সঙ্গে থাকার মাশুল না এটাকেই আমি সময় বলছি
সময় যার এক সেকেন্ড  আর এক  সেকেন্ডের  সমান সমান না
কোনটা বিদ্যুৎ  
পলক  ফেলার অবসর  দেয় না 
কোনটা  ঢিমে, চলেই না।

যে  সময়টা চলতে থাকে সঙ্গে সঙ্গে যেটা 
ঘড়ির কাঁটা নয় জলের স্রোতও নয়
তার ভেতরকার তারতম্য সর্বক্ষণ ওঠায় 
নামায়
ফুরিয়ে যাওয়ায় 
সৃজনে
মাঝনদীর  খরস্রোত বা বা
মাঝ মরুভূমির খরা
বালিয়াড়ি 
কেউই যথেষ্ট  বাধা দেয় না চলায়
চলতে থাকে বিশ্বজগৎ
চলতে  থাকি সঙ্গে

বনবাসে  যাওয়ার কোজাগরী রাত  নয়
শাণিত  পরম্পরার  শিকার যাত্রা  নয়
যে প্রস্তুতি থাকবে
জের টানা ব্যস্তসমস্ততার
আর  তটস্থ সৈন্যসজ্জা
একান্ত মন্থনে আরোপ করতে চাইবে শৃঙ্খলা
আলতো পায়ে  চৌকাঠ পেরোন
চৌহদ্দি  ডিঙ্গোন
উজাড় গ্রামের ঘুম ডিঙ্গিয়ে
সন্তর্পণে
পায়ে পায়ে চলে আসে বালি
কাঁকর ক্বচিৎ  নুড়ি ও
শুকনো পাতাদের
করুণ খর্খর আর
তার হাত ধরে ধরে প্রাচীন ভয়গুলি 
বেঁচে  থাকার আকুতিতে
গুল্মদের সবুজ জমির ঘাসে লেপ্টে থাকা শঙ্খপুষ্পী, কুকশিমা, দ্রোণ
ঘাসের আড়ালে পোকাদের ঘরকন্না
পাখিদের দিনচর্যার কাটুম কুটুম

পথচলা।

প্রাক্কালের একান্ত চেনা  বিদায় চিহ্নেরা 
বাঁধাবাঁধি
সব উপেক্ষার  খাতায় চলে যায়
চলার আবেগে 
পায়ে  বাঁধা বাউল নাচের ঘুঙুর 
আর পথ চলে আসে উত্তুঙ্গ ফ্ল্যাটের মাঝ উঠোনে হুশ উঠে যাওয়া লিফটকে  পাত্তা না দিয়েই
এই  না  উঠোন  না ঘরের জীবনশৈলী
ছাত ও দেয়ালের রক্ষণশীল আস্থা
ভালো লাগার  ক্ষণস্থায়ী খেয়ালকে একটুক ধরে আবার  ছাড়ে
পিছুটানে প্রবলতা অকেজো হয়ে
চুম্বকে জং ধরায়
হার্ড ডিস্কে জায়গা বাড়িয়ে চললেও
ফিরে আসার রাস্তাগুলো হড়পে  নেয় জনবিস্ফোরণের মতই
জনবিস্ফোরণের  সঙ্গে সঙ্গেই চলে আসা বানভাসি অধিকারবোধ ও দখল

এর একটাও এগিয়ে যাওয়া  নয়
পিছিয়ে আসাও নয়
বাসার প্রস্তাবনায় নিহিত বোঝারা দ্যাখো 
কাঁধের ওপর থেকে বিলীন
একেবারে কোন শব্দ না  তুলেই

চড়া  রোদ উঠবে কড়া  শীত নামবে
কুয়াসার জলকণারা ভিজিয়ে দেবে
আবহাওয়ার ফুরফুরে  অনায়াস ছটফটেপনা
ফুলন্ত ধানক্ষেতের  ভুবন জোড়া সুঘ্রাণে
প্রচ্ছন্ন  ফলনের, ফসলের, আশ্বাসে
উৎসবের ছোঁয়া  লাগা মন যখন পরিপূর্ণ
তখনই  কোজাগরী
তখনই বেরিয়ে পড়া
এ প্রস্তাবে কোথাও  ফেরার কথা  নেই

শরীর থাকলে ক্ষিদেতেষ্টা থাকলে  মুক্তি খোঁজার এই দোগলা চিন্তার শেকল
খুলে নিজেকে  আলগা  করে  নিয়ে এবার তোমার কথা
ওখানটা কখনই খালি নয়
ক্ষিদেতেষ্টার  জায়গাটাও খালি নয়
শীতগ্রীষ্মের কামড়
বর্ষাকালীন আর্দ্র ছোঁয়াচফোবিয়া 
টেনে রাখবে মাটিতে

পলায়ন  নয়

একটা  অবস্থা
আর একটা অবস্থায় বিলীন না হলে বুঝবে না

সোনালী মিত্র



গানফাইটারে শুভা

সোনালী মিত্র



হাংরি আপনি বিয়ে করলেন কেন ?
আরও হাজার দু'হাজার যোনিবৎসর
শুভা'র পয়মন্ত আপেলের দিকে ফিরে কাটিয়ে দিতে পারতেন ,
তরমুজ ফ্যালফ্যাল করে দিতে পারতেন রক্তাক্ত ।
শুভার সমুদ্র মন্থিতদণ্ড কী প্রত্যাশার পারদ ছিল
যে বিয়ের মধ্যে যুগান্তকারী হয়ে উঠলো ভারতবর্ষ !
কেঁদো না শুভা , কবি ও প্রবঞ্চকের ভিড়েঠাসা শব্দে
যতই নর্দমায় ভেসে যাক বীর্যপাত , মুখে খই ফুটিয়ে
ক'টা শব্দের কাঁটাছেঁড়া চলতে থাকুন তোমার নালন্দাস্তন নিয়ে
যতই তোমার জ্যামিতিক রেশম পশমের গন্ধে মাতোয়ারা ধানীচোখ
নির্লিপ্ত এগিয়ে যাক সৃষ্টির গুহ্যদ্বারের দিকে
তুমি ও তো জানো শুভা , তুমি তো জানো ভণ্ড
জগতের বিপ্লবপুরুষ নয় , তুমি তো জানো
শ্মশান , আগুন , ছাইয়ের পাশে পরিত্যক্ত লাশের বস্ত্রের পাশেই
থোকাথোকা ফুল ফুটে আছে সৃষ্টির আদিঅন্ত জুড়ে ,
মৃত্যুর উপত্যকায় যে ফুল ফুটে আছে তাকে গ্রহণ করে কি বলবে না
কবি , তুমিও রক্তমাংসের , তুমিও রক্তের
##
হাংরি আপনি বিয়ে করলেন কেন ?
শুভা কেঁদো না । আদিশূন্য বদ্বীপের মধ্যে মধ্যে শব্দের
তপ্ত লৌহদণ্ড ঢুকিয়ে দেওয়া সহজ ক্রিয়া
বোধের মধ্যে মৃত মাছের হাড়গোড় , পশুর চামড়া
মাংসের ঝোলের মধ্যে লাললঙ্কা দিলে রঙে ও স্বাদে
অতুলনীয় হয় বুঝে রাঁধুনি
তোমার শরীর ছুঁয়ে থাকলে কবিতারা হাংরি হয় বুঝে
কবিতা লেখা হয় , কবিতারা সেখানে রসনার
কবি , এবার বিয়ে করলে বটে !
শুভা , কেঁদো না মেয়ে !
তোমার শরীরী অক্ষাংশে পরিচালন বৃষ্টিপাতের গরমফোঁটা
ট্যারেন্তুলা বিষ সৃষ্টি করে মনের আঁধারে
কবি অসহায় , কবি মরে যেতে যেতে শারীরিক উদ্বেগের লক্ষণ
দিয়ে যেতে চায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে
কবি বিকৃতকাম শব্দসংযোজনে অমৃত ছিটিয়ে দিচ্ছে ভেবে
তুমি কেঁপে উঠলে ? কান্না তোমায় মানায় না
যাদের জন্ম জলে তারা কোনোদিন ডুবে মরে না
তুমি কাঁদলে , কবিতার অক্ষরে দেখি মৃত নাভির মাস
#
মা , চোখের জল মানায় না তোমায় ।
হাংরি বিয়ে করবে পৃথিবী না জানলেও তুমি জানতে বল ?
তুমিও তো কোনও সেই প্রবীণা শুভা ,
তবু , তাকে নিয়ে এসেছিলে দাম্ভিক আষাঢ়ে
বাবা অন্ধরাতে বলেছিল , এসো বীর্যবন্ত নারী , রক্তবীজ থেকে
রূপান্তরিত হোক সূর্যমুখী হ্যাংরি ফুল !
বাবা তোমাকে নর্তকী ভেবেছিল ঘুঙুরে গানের তাল ?
ভেবেছিল নক্ষত্র পুড়ে যাওয়া আকাশে নীচে শুয়ে
যে , তুমি একটা মাংসের শরীর , চোখ নেই
মুখ নেই , জিহ্বা থেকে খসে গেছে কথাগাছ !
বাবাকে তুমি এত আলোকযুগ ধরে সহ্য করে এলে কেন তবে ?
তার পশুঅঙ্গ নেতিয়ে গেলে
তাকে একটা ছাগল , গরু অথবা জানোয়ার ছাড়া
যে নামেই ডাকো , সেই ডাকে উত্তর দেবে পুরুষ ।
তুমি স্বপ্নে দেখেছিলে নদের নিমাই নেমেছে জরায়ুর দিকে ?
মাইয়ে মুখ রেখে বলল তখন সে ?-- -- মা অমৃত দাও , একটু খাবো ?
কান্না মানায় না মা , কান্না মানায় না
ঘনিষ্ঠ বাস্তবের কাছ এলে বাঘ - হরিণ একঘাটে জল খায় সত্যি হতে পারে
তাহলে হাংরি বউ নিয়ে সন্তানে সন্তানে
ভারততীর্থ করবেন না ভাবলে কী করে ?
শুভা'কে উপেক্ষা করার মুর্খামি ভুলিয়ে দিয়েছে রত্নগর্ভা
আইন নিদিষ্ট স্তনে এখন হাংরি পয়গম্বর
আর শিল্পকলায় উঠে আসবে জীবিত ভুতের আসর
#
বাবা , ক্ষমা করে দেবে হাংরি রসাতল !
কবিতা ও বাবা হয়েছেন , কবিতা ও স্বাবলম্বী
তুমি বাথরুমে ভাসিয়ে দাওনি দাহ্যরূপী শরীরী নির্যাস
ধর্ষণ করেছিলে কোনও গন্ধরমণীকে বলেই হাজার হাজার হাংরি জোনাকি
মিটমিট করছে নারী বুকের কাছে আঁচলের কাছে !
আরও একশত পূর্বেকার পিতা ক্ষমা করে দিয়েছিলেন অকালকুষ্মাণ্ড
হাত যেভাবে ক্ষমা করে দেয়
চীজ মাখা পাউরুটির উপর গু-মাড়িয়ে বসে থাকা নীলাভ মাছি
সেইভাবে পৃথিবীর সব বাপ ক্ষমা লেখে সন্তানের কপালে
মাটির প্রদীপ যেভাবে তেলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়
প্রদীপ জ্বালিয়ে
#
শুভা কেঁদো না , অস্বীকারের পর্যায়ের মধ্যেই স্বীকারের
অভিব্যক্তি থাকে জলের মধ্যে ফ্যানার ধর্মের মত
সে অস্বীকার করেছে তোমাকে নয় , আসলে অস্বীকার করতে
চেয়েছেন নিজেকে , নিজের রুস্তমকে
তবুও দেখো জীবনের সব অনুভূতি শব্দবন্দী করতে গিয়ে
নিজে কেমন সাপলুডোতে বন্দী হয়ে
আমৃত্যু একটা পথে চলতে চলতে , ক্লান্ত ?
শুভা কেঁদো না , কেঁদো না
হাংরি বিয়ে করলেন ঘটনার সামনে কবিতা কেঁদে ওঠে না
যোনিকে আজও অতিক্রম করতে পারেনি সামাজিক শ্বেতকেতু
শ্বেতকেতুর দেখানো পথে সময় আসে কবিতা আসে
অমরত্ব আসে
কবি আসে , কবি যায়
শুভা তোমাকে নগ্ন করতে পারেনি কোন হ্যাংরি
সব কবিই ঋষি প্রত্যাবর্তনের ভূমিকা গ্রহণের মাধ্যমেই
ভুলতে পারেনি পূর্বশ্রম , ভুলতে পারেনি দ্বিচারিতার ভূমিকাদোষের
মধ্যে তার বাস্তবতা , ভুলতে পারেনি উদ্বেগের অঙ্গ কোন
শুভা নয় সর্বাধিক ধারণ করে রাখবেন বউ
শুভা , কেঁদো না , নগ্ন হয়েছে প্রেমের কবিতা

মিতুল দত্ত



বাজি 

মিতুল দত্ত


পাতা ছেঁড়ো, খেয়ে ফেলো অমিত্র অক্ষর
স্থানাংক ভুলেছ যদি, তবে গান এখানে থামাও
পারিপাট্যহীন জলে যে আহ্লাদী দেখে তার মুখ
তার অবলুপ্ত জিভে চেপে ধরো অযৌন সন্ত্রাস

কালো কুলুঙ্গির দিকে ফেরানো নিকষ মুখ, যে মুখ তোমার
ক্ষমাতীর্থে কাঁপে চাঁদ, একাদশী, আরব্ধ আচার
গল্প না শোনার ছলে, গল্প থেকে দূরে বসে কারা
আর্তনাদ বাজি রাখে, যেন তুমি মায়াবী ক্যাসিনো

রুপোর চাকতির মতো, গিলে নিচ্ছ লিবিডো আমার

মনীষা কর বাগচী


 

বসন্ত

মনীষা কর


বসন্ত নিয়েছে বিদায়। জায়গা খালি থাকে না। কেউ গেলে অন্য কেউ চলে আসে। বসন্ত যায় গ্রীষ্ম আসে। গ্রীষ্মের তাপদাহে প্রাণ হাইফাই করে। খরখরে রোদ্দুর। মাঠ ফেটে চৌচির। অনাবৃষ্টি হলে তো আর কথাই নেই। কিষানের কান্নার শেষ থাকে না। মাথায় হাত সবার। কাঠফাটা রোদ্দুরে একটা জিনিস বড় শান্তি দেয় সেটা হচ্ছে গাছের ছায়া। ক্লান্ত পথিক মনের আনন্দে ক্ষণিক বসে যায় বট, অশ্বত্থ, আম, জাম, কাঁঠালের কোলে। কৃষক টোকা মাথায় কাজ করে চলে সেই রোদেলা দুপুরে।

 সূর্য ডুবুডুবু। পশ্চিম আকাশে সুদূর প্রসারী সোনা রঙের বাহার। সারা খেতে দখিনা সমীরণ বইছে অবিরাম। ফুরফুরে হাওয়ায় মন ভরে ওঠে। সেই পরিবেশে যে হেঁটেছে জমির আলদিয়ে সে-ই জানে সে  সুখ কত যে মধুর !

তারপর শুরু হবে কালবৈশাখীর উত্তাল তাণ্ডব। সে কি ভয়ঙ্কর রূপ প্রকৃতির! যে কোনোদিন গ্রামের কালবৈশাখী ঝড় দেখেনি সে প্রকৃতির রোস বুঝবে না যতই বোঝানো হোক ।

উফফফ... কি ভয়াবহ পরিস্থিতি। ঘরবাড়ি গাছপালা ভেঙে চুরমার। ছেলেবেলার কথা এখনও মনে আছে। মানসপটে আজও জ্বলজ্বল করে সেইসব স্মৃতি। টালির ঘর ছিল আমাদের। ঝড় উঠলে টালি ভেঙে যেত। চারিদিকে গাছপালা ভাঙতো। ভয়ে কেঁপে উঠতো রোমরোম। টেবিলের তলায় জড়সড় হয়ে বসে ভগবানের নাম নিতাম। বাজ পড়লে রামরাম  রামরাম বলতে বলতে গলা শুকিয়ে যেত। ঠাম্মা সচরাচর খুব একটা ভগবানের নাম নিতেন না কিন্তু ঝড় উঠলে আর দেখে কে ? হরিবোল হরিবোল হরিবোল কন্টিনিউ বলতেন যতক্ষণ না ঝড় থামে। যখন অত্যধিক হয়ে যেত, ভয়াবহতা যখন লিমিট ক্রস করে যেত তখন জেঠিমা কাকিমারা উলুধ্বনি দিত, শঙ্খ বাজাতো । তারপর ধীরে ধীরে  ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে  ঝড় বিদায় নিত ।

তখন ভেবে কুল পেতাম না ঝড়ের সঙ্গে শঙ্খ বাজানোর, উলুধ্বনি দেওয়ার কী সম্পর্ক? এখন বুঝি ওটা মানুষের ইচ্ছাশক্তি। সবাই মিলে একসাথে প্রকৃতিকে অনুরোধ করছে ঝড় বন্ধ করতে আর প্রকৃতিও মানুষের ইচ্ছা শক্তির কাছে হার মেনে ঝড়বৃষ্টি বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। শীলা বৃষ্টিও বন্ধ হয় এভাবে, আমি দেখেছি।

যাইহোক ঝড়ের পরের দিন সকালে এক নতুন পৃথিবীর আবির্ভাব হয়। সদ্যস্নাত সুন্দরী বধূর মত সে যেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। চারিদিক একদম শান্ত। শুধু কিছু বেঘর পাখির নয়ন উদাস থাকে।



প্রেম


   

প্রেম অনেক রকম হয়। কার জীবনে কখন কি প্রেম আসবে সেটা কারো জানা নেই। ছোট বেলাকার প্রেম আলাদা। বড় হওয়ার পরের প্রেম ভিন্ন। প্রকৃতি প্রেম, মা বাবার প্রতি প্রেম, ঠাম্মা দাদুর প্রেম, মামা মাসির প্রতি প্রেম, হাজারো রকম প্রেম থাকে মানুষের জীবনে। কিছু প্রেম সময় বদলের সাথে সাথে ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যায়, কিছু প্রেম ঠিক তেমনি থেকে যায় অম্লান যেমন আগে ছিল।

আকাশ ভরা তারা ঝলমল করছে। রাত প্রায় বারোটা বেজে গেছে। নির্ঘুম চোখে মিনা চলে গেছে তার প্রথম প্রেমের কাছে। ছোট্ট মিনা কত প্রেম পেয়েছে সে। সবার ভালবাসা ভরপুর করে রেখেছে তার ছোট্ট হৃদয়। সবাইকে প্রেম দিয়েছেও সে। কিন্তু.......

তার প্রথম প্রেম ছিল সোনালী সকাল। পাখির মধুর গীত শুনে সেই সাত সকালে ঘুম থেকে ওঠা। চোখ মুছতে মুছতে বাইরে বেরিয়ে এসে নানা রকম পাখির কিচির মিচির শুনতে থাকা। প্রাণ জুড়ানো মন জুড়ানো স্নিগ্ধ মধুর শীতল হাওয়াতে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নেওয়া। শিশির ভেজা ঘাসে পা  রেখে রেখে ফুল তুলে বেড়ানো। উঠোনে গোবর ছড়া দিয়ে রেখেছে মা। তাজা গোবরের আর ভিজে মাটির গন্ধ মিশে এক অদ্ভুত ভাল লাগা সুগন্ধ পাওয়া। গাছের আবডাল থেকে মায়ের কপালের লাল টিপের মত লাল সূর্যটার ধীরে ধীরে উপরে উঠে আসা । লাঙল নিয়ে কাঁধে টোকা মাথায় চাষি চলে যেত জমির দিকে। শীতের সকালে খেজুরের রস কত ভাল যে লাগত। মিনা লাল সূর্যটার দিকে খানিকক্ষণ তাকানোর পর একটু চোখ বন্ধ করে যখন চোখ খুলত তখন দেখতে পেত অসংখ্য লাল নীল হলুদ সবুজ সূর্যের সমারোহ। আর তখন সে আনন্দে বিভোর হয়ে হেসে লুটোপুটি খেত। হাস গুলো কেমন প্যাক প্যাক করত, মোরগ গুলো কুকড়ুকু করত সবাই যেন ওকেই স্বাগত জানাত। মনমাতানো শিউলির ঘ্রাণ, লেবু ফুলের, বেলের ফুলের, আমের মুকুলের সুবাস এখনও জড়িয়ে আছে মিনার নাকের ডগায়।

এখন সে তার প্রথম প্রেম থেকে অনেক দূরে কিন্তু ভুলতে পারে নি কিছুই সে। ছোট বেলাকার প্রেম কে মনে করে এখনও দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে মিনা।

পাখির কলকাকলী তো দূরের কথা এখন সে একটা কাকের কা কা ও শুনতে পায় না।



নববর্ষ



শীতের শেষে কী নিদারুণ ভাবে ঝরে যায় পাতা.... ন্যাড়ামাথা গাছগুলো উলঙ্গ ডালপালা নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে।হিমেলবাতাসে তিরতির কাঁপতে থাকে শূন্য শরীর।নির্নিমেষ চোখে শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষা বসন্ত রানীর।

সুদীর্ঘ অপেক্ষা শেষে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আসে বসন্ত। কিশলয়ে কিশলয়ে ভরে ওঠে উলঙ্গ বৃক্ষরাজি। আহা ! কী বাহার আকাশে বাতাসে পাহাড়ে জঙ্গলে।এদিক ওদিক থেকে উঁকি মারে নটখট দুষ্টু মিষ্টি কলিরা। কিছুদিনের মধ্যেই কলিরা ডানা মেলে দেয় নীল আকাশে। সোহাগী হয় রঙবেরঙের পাপড়ি সাজিয়ে। ভালোবাসায় মেতে ওঠে প্রজাপতি কীটপতঙ্গ মৌমাছিদের সাথে। নতুন সৃষ্টির নেশায় গা ভাসিয়ে দেয়। সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতে ওঠে। তাদের আলোয় আলোকিত হয় সমস্ত ভুবন। তাদের সুগন্ধের মাদকতায় নেচে ওঠে কল্পনাপ্রবণ মানব মন।

এমনি করেই পুরাতন যায় নতুন আসে ফিরে। নতুন পুরাতনের যাওয়া আসায় সুখে দুখের দোলায় দুলতে থাকি আমরা। নতুন বছরের নতুন দিনের নতুন সময়ের কিশলয় উঁকি দিচ্ছে আমাদের মনে। মেতে উঠেছি আমরা নববরণের নবীন নেশায়। ফুলে ফলে পাতায় পাতায় পৃথিবীর প্রতিটি ধূলিকণায় নববর্ষের গীত শোনা যায়। ময়না টিয়া  কোকিল ধরেছে সুর।  নববর্ষ তোমাকে সুস্বাগতম গাইছে সুমধুর।

জ্যোতির্ময় মুখার্জী

 

কীভাবে ভোর হয়



আমি জানি না, ভোর হলেই একটা পাখি ডাকে। আমি ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমাতে ঘুমাতে হাঁটি, হাঁটি। ক্রমশ ডাল পালা পাতার ফাঁক গলে নামতে নামতে শিকড়। মাটির অনেকটা নীচে ঢেকে রেখেছি আমার ছেলেবেলা

ছেলেবেলা থেকে কেউ সুর করে ডাকে, আয় আয়...চাঁদমামা টিক্ দিয়ে যা… আমি কখনও চাঁদের দেশে যাইনি, খুব যেতে ইচ্ছে করে বুড়ির দেশে, পাকা চুল, চরকা কাটছে তো কাটছেই…আমি চরকার সুতো হয়ে আছি, ঘুরতে ঘুরতে সুতো ধরে নেমে আসছি নীচে, অনেক নীচে। একটা নীল জল, নীল পাহাড়, নীল সবকিছু…

যমুনা ঠেলে ঠেলে উঠে আসছি, কদম গাছ, তার নীচে অপেক্ষা করে আছে কেউ। আমাকে যেতেই হবে, আমি হাঁটছি। মেঘ করে এল, ঘন মেঘ, বিজরী চমক, ব‍্যাঙ ডাকছে, কাদা কাদা কাদা, আমি হাঁটছি...মাটি নেই কেন? পায়ের নীচ থেকে সরে যাচ্ছ কেন পৃথিবী?

সেই গ্লোবটা, রাখা আছে পড়ার টেবিলে। ঘুরছে, ঘুরছে আমি পড়ে যাচ্ছি। উঠে দাঁড়াতে পারছি না, পারছি না। চরকার বুড়ির আঙুলে রক্ত লেগে আছে। ভিজে যাচ্ছি। চ‍্যাটচ‍্যাট করছে গা, গন্ধ। বমি, বমি। পেট ছিঁড়ে বেরিয়ে আসছে, প্রথম ভাত

পেটে হাত দিয়ে দেখি, নাড়িভুঁড়িগুলো নেই। কে খেয়ে নিল? আঙুলগুলো’ও আর আঙুল নেই, চামড়া নেই কেন? শুধু হাড়। মাংস কোথায় গেল? সেই হাড়গিলেগুলো আবার এসেছে। প্রতি রাতে আসে ওরা। সকাল হতেই দূরে দূরে, মেঘ

আমাকে খেয়ে নেবে ওরা। কখন সকাল হবে? আমাকে ঘুমাতে দেবে না ওরা। কখন সকাল হব? ওরা চাঁদের মতো একা ফেলে চলে যাবে আমাকে। দগদগে ঘায়ের মতো, চাঁদ জেগে থাকে

আমার খুব ঘুম পাচ্ছে, আমাকে ঘুমাতে দাও। ছেলেবেলা থেকে কেউ গাইছে, ছেলে ঘুমাল পাড়া জুড়াল বর্গী এল দেশে...খুব ভয় করছে… আমাকে ঘুমাতে দাও… ওরা আমাকে মায়ের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে যাবে, আমাকে ঘুমাতে দাও। ওরা আমার মায়ের সামনেই আমার মাথাটা কেটে নিয়ে ফুটবল খেলবে...আমাকে ঘুমাতে দাও। আমাকে জাগিও না আর, আমি চোখে খুললেই দেখতে পাব, মা’কে উলঙ্গ করে টাঙিয়ে রেখেছে ওরা, কেটে নিয়ে গেছে স্তন, যোনিতে পাথর ঢুকে আছে, ফালাফালা

আমাকে জাগিও না, ঘুমাতে দাও। সব খাজনা মিটিয়ে দেব। বুলবুলির পেট চিরে নিয়ে আসব ধান। আমাকে ঘুমাতে দাও। ওরা ঘোড়া ছুটিয়ে আসছে, দাউ দাউ করে জ্বলছে আমাদের ঘর। আমাকে ঘুমাতে দাও। বাবা কোথায়, মা কোথায়, ভাই, বোন? তোমরা এতো চিৎকার করছ কেন? আমাকে ঘুমাতে দাও

ওই দ্যাখো, চলে গেছে ওরা, দূরে। ওই দ্যাখো ধুলো উড়ছে ধোঁয়া ধোঁয়া মাঠ পেড়িয়ে। ওরা আর আসবে না। ওরা আর আমাকে ঘোড়ার খুঁড়ে বেঁধে রাখবে না। আমি চলে যাব, আরও দূরে...অনেক অনেক দূরে। সব ঘুম ঠেলে, ঠিক পৌঁছে যাব...

সেই চাঁদের পাহাড়, মাথায় যাহার, রামধনু রাঙা হয় দেখতে পাব


   


এসো যা কিছু, পারাপার


আমরা একটা ভুল জীবনে বাস করি। ঘটনাবহুল, এমনকি শীতকাল। আমার মুখে কোনও সহজ খুঁজো না, মানসী

সেজেছ, যা কিছু তুমি মুখ। আমি তাকে সত্যি ভেবে জ্বালিয়ে এসেছি আলো। অভিনয়, কোন গোপন প্রেমিক নয়। দুচোখে কাজল লেপলে, আমি ক্রমে মাংসাশী হয়ে উঠি

ওসব ঠিক কুয়াশা বলে কিছু নেই। আমরা সবাই, যে যার আয়না। মুখ দেখি, মুখোশ পরি। ভেতরে ভেতরে, আলতো হেঁটে গেলে, ঘর অপেক্ষা রোদ

এসো দুচোখে গান বুলিয়ে দিই। চোখবুজে, তুমি শোক। এসো যা কিছু, আমাদের গানের ভেতর, পারাপার, ছিন্নমূল ঠোঁট। নির্ভার হয়ে গেলে, ডোম-ডোমনির দিগন্ত হয়ে উঠি





সেই মোঙ্গলিকে


মনে পড়ে? জাঙ্গল বুক? আমার ছেলেবেলার বন্ধু। এখনও। তখন তো সিনেমা ছিল না, কার্টুন চ্যানেল’ও। তাছাড়া টিভি দেখলে যেহেতু ছোটদের চোখ পচে যায়, সরস্বতী রাগ করেন। তাই, পড়তেই পড়তেই ছবি দেখতাম। ছবিগুলো জোড়া লাগিয়ে লাগিয়ে সিনেমা, চোখের মনে

ঘুমের ভেতর ভেতর ঘুম থেকে জেগে উঠেই নামাল ধরে ঝুলতাম। এ গাছ থেকে সে গাছ থেকে গাছ গাছ...হঠাৎ আর নামাল নেই। ভাসতে ভাসতে পাখি হব না ফল, জানার আগেই ঘুম ভেঙে যেত

অনেক চেষ্টা করেও পাখি হতে পারিনি কখনও বা ফল। কিন্তু এই ফলাফলটাকে অমীমাংসিত রাখার কোনও ইচ্ছাই আমার ছিল না। ঘুমের ভেতর তো আমার কোনও পা নেই, হাত'ও। তাই একদিন চড়ে বসলাম আমড়া গাছের ডালে

গাছটা বেশ বড়ো। ওই দুইতলা কি তিন, বিরাট উঠোনে। নীচে এক ছোট্ট পেয়ারা, আমার অবসরের পেয়ারাসন পেতে রাখত। পেয়ারা গাছ বেয়ে সোজা আমড়ায়। মগডালে। হাতের কাছে জুতসই একটা ডাল পেয়ে ঝুলছি তো ঝুলছি। হঠাৎ…

কিছুক্ষণের জন্য জ্ঞান হারালেও সুখবর এটাই যে, আমি বেঁচে আছি


এক আশ্চর্য আড়ম্বর


এ এক আশ্চর্য আড়ম্বর। আমি অর্থ খুঁজছি, তোমাতে। তুমি হেঁটে যাচ্ছ, পাশাপাশি। তবু তোমার মুখোমুখি হতে পারিনি কখনও

এটাকে তুমি জেগে থাকা ভেবে ভুল করো না। তুমি এসেছিলে যেদিন, হাত রেখেছিলে। ঘুম ভাঙিয়েছিলে। আমি সেদিনই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, নিশ্চিন্ত ঘুমে, কাল আর কোনও কাজ নেই জেনে

বেশ বুঝতে পারছি, শরীরের ভিতরে ঢুকে পড়ছে শরীর। শরীর থেকেও বেরিয়ে আসছে শরীর। মাঝখানে কোনও দরজা তোলা নেই। আমরা দুজনেই দুজনের মুখোমুখি, নিশ্চিত দর্শক

এসো হাসি খেয়ে ফেলি, যা কিছু কান্না ভেবেছি আমরা। যা কিছু মেঘের দেশে পুতুল খেলা

তুমি একটুকু এসে বসো, কাছে। ঠিক এইখানে। খুব কাছে নয়। খুব দূরেও নয়। মাঝে একটু ফাঁক রাখো। মিশে গেলে যে, আমি তোমাকে দেখতে পাব না

বাতাস বলতে আমি, হেঁটে যাওয়াই বুঝি। জল বলতে, আয়না। তুমি দুটোই হও। আর মেঘ ভালো লাগে না। ঝরো ঝরো। ঝরে পড়ো সবটুকু। বৃত্তের বাইরে জমিয়ে নাও এক মেঘ সমুদ্র। বৃত্তের পরিধি ধরে আমি একা

এইভাবেই হেঁটে যাব আমরা। এইভাবেই মেঘ বানাব, বৃষ্টি ছোঁব। সমুদ্রের নীচে যা কিছু আছে, ডুবে যাওয়া জাহাজ। আমরা ওদের তুলে নিয়ে এসে, হাতের দূরত্বে চালান করে দেব

নাও, পরিমাপ করে নাও। এই নাও, আমার মুক্তি। এই নাও, তোমার যা কিছু জমানো কথা। সব দিয়ে, আজ আমি নিঃস্ব হব। তুমি অপেক্ষা করো, আমি আসছি। মুঠো খুলে রাখো, আমি আসছি, জমানো যা কিছু, আমাদের আশ্চর্য আড়ম্বর








অমল বসু



অমল বসু


নাতনির সাথে ডেটিং-এ



১)

কলেজের গেটে অপেক্ষা চিরকালই দাঁড়িয়ে থাকে। তেমনি দাঁড়িয়ে ছুঁতে চাইছি বেলা সাড়ে তিনটের দূরত্ব।নবীন সময় আই কার্ড বুকে অর্জন করেছে আত্মবিশ্বাস। এই সময় কথা শোনে না, সব অর্থেই অনিশ্চিতও নির্লিপ্ত। অটো টোটো কার বাস ট্যালা নারী পুরুষ কুকুরও ছুটছে। বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষার ছায়া নেই। লম্বা বেঞ্চগুলোয় বসে আছে শূন্যতা। সমস্যা সমাধানে পৌঁছে গেলেও জিরাফের লম্বা নজর ঝুলিয়ে রাখি কলেজের গেটে। একই আদলের ছেলে ও মেয়েরা। নীলাভ জিন্স, পিঠে কালো ব্যাগ। নিজের নাতনিকে আলাদা করে চেনাও জটিল অঙ্কের উত্তর খোঁজা। রঙের বিচারে রামধনুর কাছে পৌঁছে গেলে, মনে পড়ে মেরুন রং সেখানে নেই। তবু না থাকা রঙটিকেই খুঁজে নিয়ে ছিল তার ব্যাগ। ছুটিছাটায় বেড়াতে এলে তাকে স্কুলবাসে তুলে দিতাম, শুভার্থী কেউ যদি প্রশ্ন করতেন, মাম্মি আয়ি নেহি? বাঁহাত উল্টিয়ে শৈশব চিনিয়ে দিত, এহি মেরি মাম্মি। অপ্রস্তুত হাসি জড়িয়ে তিনি বলতেন, নমস্তে আঙ্কেল।

দিন গড়িয়ে ফার্স্ট ইয়ার এখন আমার অভিভাবক। দেশ বিদেশে কতবার ঠাঁইনাড়া হয়ে বিশ্বনাগরিক দিল্লিতে। আজ শনিবার বেড়াতে যাবার কথা মিলিনিয়ম সিটিতে। ভাবনার এক্সকেলেটর থেমে যায় হাসি খুশি দুটি চোখে। আমার হাত টেনে ধরে বলে, চলো। তৎপরতার সাথে অটো দাঁড় করায়, আমাকে বসিয়ে সে ওঠে। দৃঢ় উচ্চারণে বলে, মেট্রো। স্টেশন শব্দটি উহ্য থেকে গেলেও অটো বাঁক নিয়ে ছোটে। গোবিন্দপুরি স্টেশনে চলমান সিঁড়ি গতিমগ্ন। আমার দিকে তাকিয়ে খানিকটা ঝুঁকে বলে, পারবে তো? বাধ্য শিশুর মতো ঘাড় কাত করে সম্মতি জানাই। একটা সিঁড়ি ওপরে দাঁড়িয়ে আমার হাত ধরে থাকে। ল্যান্ডিং-এ নেমে এক পাশে সরে বলে, শোনো এ কলকাতা নয়। সাত রঙের আটটা লাইনের বিস্তার। মাকড়শার জাল পাতা দিল্লি-মেট্রো, এদিক ওদিক হলেই জড়িয়ে যাবে। এটা ভায়োলেট লাইন। নেক্সট ইজ কালকাজি, সেখানে নামব। কালকাজিতে দুটো লাইন ভায়োলেট অ্যান্ড ম্যাজেন্টা। ম্যাজেন্টা লাইনে গিয়ে হসখাস স্টেশন। সেখানে ইয়োলো লাইন ধরে যেতে হবে হুডা মেট্রো স্টেশন, বুঝলে? ভায়োলেট ম্যাজেন্টা ইয়োলো রং গুলিয়ে কী রং হয়, জানা না থাকায় ডানে বাঁয়ে মাথা দুলিয়ে তাকে অনুসরণ করি।  টিকিটের স্বয়ংক্রিয় মেশিন, অনেকটা এটিএম-এর মতো। স্ক্রিনে H ছুঁতে ড্রপডাউন মেনুতে হুডা মেট্রো স্টেশন। যাত্রী সংখ্যা, টাচ1, এল 60.00, স্লটে 50 ও 10 টাকার নোট রাখতেই ব্যাঙের উল্টো জিভে সটাসট গায়েব। গড়িয়ে এল কালচে রঙের একটা চাকতি। সেটা তুলে নিয়েই বললে, চলো। মুখ তুলে তার চোখে প্রশ্ন রাখতেই বললে, আমার কার্ড আছে। সিকিউরিটি চেক সেরে প্লাটফর্মে গিয়ে সে বলে, পায়ের নীচে এই ইয়োলো রঙের তীরগুলো গাড়িতে ওঠার নির্দেশ। মাঝের বিপরীত মুখী মেরুন তীর ধরে নেমে আসবে যাত্রীরা। প্রশস্ত দরজার মুখে নো ধাক্কা ধাক্কি। মজার হাসিতে বলল, এটাই মেট্রো ডিসিপ্লিন।

২)

ট্রেন এসে দাঁড়ালে অভ্যাস মতো আমি যাত্রী নামার অপেক্ষায়। ওঃ! ভ্রূ কুঁচকে সে দ্রুত আমাকে ট্রেনের ভেতরে টেনে নেয়। মুহূর্তেই ট্রেন কালকাজি মন্দির স্টপেজে এসে দাঁড়ায়। দু-পাশে লোক উঠছে মাঝ বরাবর আমরা নেমে পড়ি। ম্যাম প্রশ্ন করে, এবার কোন লাইন? 
মাথা চুলকে ছাত্রের অনিশ্চিত উচ্চারণ, ম্যাজেন্টা!
-গুড। দেখো ম্যাজেন্টা রঙের পায়ের ছাপ প্লাটফর্মে। আমি দেখি লক্ষ্মী সরস্বতী কার্তিক গণেশের একমুখী মসৃণ পায়ের ছাপ নির্দিষ্ট অভিমুখে এগিয়ে গেছে। সেই চলমান চিহ্ন পৌঁছে দিল রেললাইন আড়াল করা এক ধাতব দেয়ালের সামনে। সে চোখ নাচিয়ে বলে, লুক আওয়ার নিউ টেকনোলজি। ডিপ্রেশনের মেঘ ঘন হলেই লাইনে ঝাঁপ দেবার উপায় নেই।
-ঝাঁপ না হয় নাই দিলাম, কিন্তু ট্রেনে উঠব কী করে?
সে শরীর দুলিয়ে বলে, দেখতে থাকো কী করে কী হচ্ছে।
ট্রেন প্লাটফর্মে এসে দাঁড়ালে দরজা বরাবর দেয়ালও দু-পাশে সরে গেল। ডিসিপ্লিন মেনে ট্রেনে উঠে বসলে, কানের কাছে মুখ এনে বলে, টাইম জেনারেটস নিউ আইডিয়া। পরক্ষণেই উচ্ছ্বসিত হয়ে বলে, লুক লোটাস টেম্পল। স্বচ্ছ জানালায় সাদা পদ্মের অপরূপ স্থাপত্য অপসৃয়মাণ। ট্রেনের ভেতরে স্মার্ট ফোনের ডুবজলে তলিয়ে গেছে অনেকেই। শিশুরাও খেলছে হাঁটু জলে। মেধাবী যাত্রীদের অবয়বে প্রসন্নতা। মাটি থেকে অনেকটা ওপর দিয়ে ছুটছে ট্রেন। নাগরিক স্থাপত্যের বিস্তার ঘিরে আছে সবুজ বনানী। মৃদু স্বরের যান্ত্রিক ঘোষণা নামিয়ে দেয় হসখাস স্টেশনে। তখনই উল্টো দিকের ইয়োলো লাইনে ট্রেন ঢুকে পড়ে। সে আমার হাত শক্ত করে চেপে ধরে বলে, লিভ ইট। একরাশ ভীর ও ব্যস্ততা কুড়িয়ে নিয়ে ট্রেন চলে যায়। নাটকের প্রম্পটারের স্বরে বলি, ঠিকই যেতে পারতাম। দু-চোখ কপালে তুলে, গোল ঠোঁটে ও ও ও ... শব্দসুর ভাসিয়ে সে আমার দু-কাঁধে হাল্কা ঝাঁকি দিয়ে বলে, রিলাক্স ম্যান।

কিছু পরেই ট্রেন এলে উঠে বসি, ঝকঝকে রেক ফাঁকাই। মনোরম আলো ও এসি-র আরামে যাত্রীরাও অন্যরকম। কলকাতার তুলনায় দিল্লি মেট্রোর ভাড়া অনেকটাই বেশি। সাকেত স্টেশন এলে সে বলে, কুতুবমিনার দেখবে? কুতুবমিনারের সাথে তার সখ্যতার খবর আমি শুনেছি। ন-বছর বয়সে ডেঙু, ভর্তি সাকেত ম্যাক্স হাসপাতালে। জানালায় কুতুবমিনার ভুলিয়ে দিয়েছিল শারীরিক বিকার। অসময়ের কিছু আনন্দ চিহ্ন রেখে গেছে আদুরে শৈশব। দু-পাশে পাহাড় ও অরণ্যের ল্যান্ডস্কেপে ছুটছি। সে বলে, এটা গুরু দ্রোণাচার্য স্টেশন, আর দেরি নেই।

৩)

-বাঃ, তা আমরা কী খাব, কোথায় খাবো? কিছু ভেবেছো?
-শুধু খাই খাই! অন্য কিছু ভাবতে পারো না? আমি তাজ্জব। সারাদিন কলেজ গেছে, খিদে কি পায়নি?  এ বয়স কীই না খায়, অথচ এ মেয়ে পহারীবাবা! আমাদের ছিল অনাদির মোগলাই, ইনডিয়ানার চাপ তন্দুরি। বড়ো জোর আমিনিয়া স্পেশাল, রিয়ালের ফিরনি বা কুলফি। মনের কথা মনে রেখে ঠোঁট উলটে বলি, খিদে পেয়েছে।
-বাড়ি থেকে বেরুনোর সময় খেয়ে আসোনি? যাই বলা হবে, না করে বসবে। কী খাবে সেই বলুক। সে নরম করে বললে, খুব খিদে পেয়েছে? আমি শিশুর মতো অকপট হাসি ছড়িয়ে দক্ষিণি মাথা নাড়ি।

সে বলে, ভেজরা অনেকেই চিকেন মাটান বিরিয়ানি সাঁটিয়ে বাড়ি ফিরে তুলসী পাতা চিবোয়। সশব্দে হেসে হাতে মুখ ডাকে। কী সাংঘাতিক, আমাকে বেড়াল তপস্বী ভাবছে নাকি! আমি বলি, আমার কোনো ছুৎমার্গ নেই, তুমি খেলে খাব।
-রাবিশ, তুমি জানো না- আমি স্টেটস-এ থাকতেই ভেজ। এবার ভাবছি ভেগান হবো। বিরাট কোহলি হয়েছে, জানো? ভেগান! এ মেয়ের কপালে কী লেখা আছে কে জানে? বলি, পড়াশোনার সময়, কত পরিশ্রম, প্রোটিনের অভাব হবে যে!
-কেন, বিশ্বে কোন প্রাণী অন্য প্রাণির দুধ খায়, বলো?
- সে তাদের বুদ্ধি নেই বলে, পোষ মানাতে জানে না, তাই।
- এটা কুযুক্তি, তুমি ড. ক্যাম্বেলের চায়না স্টাডি পড়োনি?
- চিনেরা তো পোকা মাকড়ও ছাড়ে না, তার আবার স্টাডি?
- আমি যা জানি না, তা আর কেউ জানে, এ বুঝি হয় না?
আমি অবাক চোখে তাকিয়ে দেখি নবীনা নারীকে। আমার পিঠে হাত বুলিয়ে বলে, দ্যাটস এ গ্রেট রিসার্চ ওয়ার্ক অন ফুড হ্যাবিট এন্ড নিউট্রেশন। মিলিনিয়াম সিটি গুড়গাঁও, গুরুগ্রাম নামে ছুঁতে চাইছে মহাভারতের সময়কে। দিল্লি-মেট্রোর ইয়োলো লাইনের প্রান্তিক ঠিকানা হুডা মেট্রো স্টেশনে আমরা নামি। স্টেশনের নীচেই মার্কেট। বারগার কিং-এর সামনে দাঁড়িয়ে বলে- বারগার খাবে তো? লেটুসপাতা শসা গাজরের দৃশ্যটা হজম না হওয়ায় চোখ বুজি।

-তুমি কি কেএফসির স্বপ্ন দেখছিলে? হাউ গ্রিডি ইয়ু আর! সে মিটি মিটি হাসছে। হয় তো জরিপ করে দেখছে বৃদ্ধটি কতটা জেনুইন। নাকী তাকেই বিদ্রূপ করার সাহস দেখাচ্ছে! সে হঠাৎ কপালে হাত নিয়ে বলে, দেব দ্বিজে ভক্তি অথচ ঘরে বাইরে ভণ্ডামি কী করে করতে পারো তুমি? ভেগানের দরজায় পা বাড়িয়ে থাকা মেয়েকে আশ্বস্ত করে বলি, আহা, ঘরে বাইরে আমি তো ভেজই, কিছু একটা হলেই হবে।

 ৪)

-তুমি কী জানো কিং মানে কী? রাজা বাদশা, মিনস- সেরা।
-ঠিক, তবে বার্গার টার্গার টিভিতে দেখে তো লেটুস পাতার কথাই মনে পড়ে।
সে বার্গার কিং-এ ঢুকলে আমি তাকে অনুসরণ করি। নীল রঙের পোশাক পরা তরুণী হেসে অভিবাদন করলে, সে এগিয়ে যায়, তাদের সংলাপ আমার কানে পৌঁছোয় না। কার্ডে দাম মিটিয়ে পাশে এসে বলে, বার্গারের সাথে জলের বোতল বলে দিলাম, একটু ওয়েট করতে হবে। কফি না কোল্ড ড্রিংকস, কী নেবে?
-কফিই বলে দাও।
-এখানে নয়, স্টারবাকসে কফি নেব।
-কফি খেতে আবার স্টারবাকস!
-যেখানে যা সেরা, স্পেশালাইজড দুনিয়া।
-ঠিকই, স্পেশাল মানুষদের জন্য সবই স্পেশাল।
-তুমি মজাক করছো?
-না, দিদিভাই স্থান কাল পাত্রের ফারাকটা বুঝতে চেষ্টা করছি। কাউন্টারের ইঙ্গিত পেয়ে সে এগিয়ে হাতে ধরে নিল খাবারে ট্রে। আমাকে চোখের ইশারায় জলের বোলত নিতে বললে, নিলাম। পাশের সিঁড়ি দোতলায় উঠে গেছে। অজস্র ছোট ছোট চেয়ার টেবিল, ফাঁকাই। একজন খাবার শেষ করে ল্যাপটপ খুলে বসে আছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে কিছু তরুণ তরুণী নিজেদের নিয়েই মগ্ন। দেয়াল ডানে রেখে একটা টেবিলে আমরা মুখোমুখি বসি। ল্যাপটপ ছাড়া সবাই কথা বলছে, টের পাচ্ছে না বাতাস। আমার চোখ এদিক ওদিক ঘুরেছে দেখে সে বলে, নো স্টকিং।
আমি বুঝতে না পেরে বলি, মানে!
সে ফিস ফিস করে বলে, কারো দিকে তাকিয়ে দেখতে নেই।
হেসে মাথা নেড়ে বলি, দিনাজপুরের হুদুই রয়ে গেলাম।
- ওঃ, সুইট ভিলেজ। আমার দেখা প্রথম গ্রাম, মুরারিপুর, নাইস। আরে, কাঁটা চামচ ধরেতে হবে না, হাত দিয়েই খাও।
- হাত দিয়ে! বেসিন কোথায়, হাত ধোব না?
সে ট্রে থেকে টিসু পেপার তুলে নিয়ে হাসে, নো বেসিন। আমার ব্যাগে স্যানিটাইজার আছে নেবে? স্যানিটাইজার লাগিয়ে টিসু পেপারে আঙুল ঘষে ঘষে বলি, নয়া দুনিয়া নয়া জিন্দেগি। ভেজ বার্গারে টক নুন ঝাল মিষ্টির মিশ্রস্বাদের ক্রিমলেয়ার বেশ উপাদেয়। স্বাদের মিষ্ট্রি, ভাবি এ বুঝি গ্রহান্তরের আমদানি। দাম কতো, জানলে স্বাদের মাত্রা ছোঁয়া সহজ হয়। কিন্তু দাম জানতে চাওয়া মানে আর এক বিপদ ডেকে আনা। তার মোবাইল-পাখি হঠাৎ অনুচ্চ স্বরে ডেকে উঠলে গলা নামিয়ে বলে, হাই পাপা। ওপারের কথা শোনা যায় না

৫)

-হ্যাঁ, আমরা বার্গার কিং-এ।
-না তোমাকে আসতে হবে না, আমরা চলে যাব।
খেয়ে দেয়ে টিসুপেপারে মুখ ও আঙুল মুছে উঠে দাঁড়াই। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলি, আর কফি খেয়ে কাজ নেই। সে প্রায় আর্তনাদ করে ওঠে, আফটার অল তুমি আমার সম্মানীয় অতিথি। বদনাম হতে দেয়া যায় না, কী কফি নেবে?
-আমি ব্লাকই খাই, তবে আজ রেগুলার কফি বলে দাও।
-না, বলছি ক্যাফিচিনো অথবা লাতে? ভাবি, ক্যাফিচিনো শব্দটা চেনা, লাতে! অগত্যা নিরবতার বর্মে ঢুকে পড়ি। কফিশপে চেয়ার টেবিল প্রায় ফাঁকা শোফায় বসে বলি, কী ব্যাপার, লোকজন কি নোটবন্দি হয়ে গেল?
-খানিক জিরিয়ে নিতে যারা আসে তারা একটু প্রাইভেসি চায়। এটা বুঝেই সময়ের দাম ধরে নিয়ে গলা কাটে কাস্টমারের। পুশিয়ে নেয়।
-খুব দামি বুঝি।
-সে তোমাকে ভাবতে হবে না।
-তুমি তো জব করো না, আমিই না হয় দিই। সে হেসে বলে, তুমি আমার গেস্ট। কী খাবে বলো? ক্যাফেচিনো স্ট্রং আর লাতে-তে দুধ বেশি থাকে।
-তবে ক্যাফেচিনো বলে দাও।
-আমি লাতে নেব, তোমাকেও টেস্ট করতে দেব, সে হাসে।
তার দাঁতে সোনালি ব্রেসের ঝিলিক। আপেল কামড়ে খেতে পারত না। দাঁতগুলো কিছুটা উঁচু দেখাত। ক-বছর ধরে চলছে ডেন্টিস্টের দরবারে যাতায়াত। কফি শেষ করে নীচে রাস্তায় নেমে গেলে ছেঁকে ধরে অটো চালকেরা। গন্তব্য নির্বানার মার্কেট এনক্লোজার ডেন্টিস্টের চেম্বার। অটোতে বসে মিহি কণ্ঠ বলে, এই হল আমাদের দেশ। কফিশপের আলস্য নয়, প্রতি মুহূর্তের লড়াইয়ের মাঝে বেঁচে থাকে।

আমি এক বিস্ময়ের মুখোমুখি। কী বললে, লড়াইয়ের মাঝে বেঁচে থাকে! সে মুখে কিছু বলে না। তার ঘাড়ে থুতনি ও মাথা উঁচু নিচু হতে হতে থেমে যায়। আমি গলা খাদে নামিয়ে বলি, কী করে লোকেট করো এই মহাভারতের সাথে?
-কেন? মেধা ও মননের সংযোগ হলেই তুমি পৌঁছে যেতে পারো অসম্ভবের কাছা কাছি।
তাকে জড়িয়ে ধরে আদর করি। মাথায় হাত বুলিয়ে বলি, কলেজের ওয়েলফেয়ার ক্যাম্পে এদিক ওদিক যাচ্ছো বুঝি। সে বলে, কী যে বলো। চোখ কান খোলা থাকলেই হয়, চাই ইতিহাস চেতনা। আলোর উৎসব দীপাবলি এবং হ্যালুইন-এর হাতছানি। প্রশস্ত চত্তরে দোকান উপচে পড়া সম্ভার।

৬)

কালো জমিনে সাদা কঙ্কাল আঁকা ভূতের আলখাল্লা ও মুখোশ। হিল ঠুকে দৌড়ে গিয়ে ভূতের আলখাল্লা গায়ে জড়িয়ে সে হাসে। কী সুন্দর বলো! সুন্দরের রকম ফের নিশ্চয় আছে, এও এক আনন্দ। আমাদের ছিল বুড়ির ঘর পোড়ানো, কী যে সেই উৎসাহের আয়োজন। খাড়ির পাড়ে অপটু শৈশবে জড়ো করা যা কিছু দাহ্য। গোধূলির শেষে দাউদাউ জ্বলে উঠত, পুড়ে যেত যাবতীয় ভয়। এই ভয় জয় করার রকম ফের হয় তো হ্যালুইন উদযাপন।

সে বলে, জানো তো আমি তখন ক্লাস সিক্স। পোটোম্যাক নদীর পাড়ে আমাদের ফ্লাটের উল্টো দিকে থাকত এক পাকিস্তানি পরিবার। তাদের মেয়ে জিয়া আমার সাথে কিলমার স্কুলেই পড়তো। হ্যালুইনের সন্ধেতে ভূতের পোশাক ও মুখোশ পরে বন্ধুরা তাদের দরজায় নকনক। জিয়ার মাম্মি দরজা খুলে দিলে দেখি সেও ভূত সেজেছে। আমাদের দেখে লাফিয়ে উঠল। জিয়ার ফাদার চকলেট ক্যান্ডি দিল আর মাম্মি একশ ডলার। জিয়াকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেলাম। দরজার ফ্রেমে জিয়ার পেরেন্টস হাত নাড়ছে। দেশে ফিরে অন্য বন্ধুদের মতো জিয়ার সাথেও যোগাযোগ ছিল। ইদানীং আর লিংক রাখি না।  কী সব নজরদারি চালু হয়েছে। স্বদেশী ভূতেরা লিংক খুঁজে দরজায় নকনক করলেই গেছি।
রোদ মাখা সোনাঝুরি মুখে কী এক বিষণ্ণতা খুঁজে পাই। দৃষ্টি স্থির করলে তার চোখে পলক পড়ে। রাজধানীর বৈভব ও ক্ষমতামগ্ন সময়কে ভেদ করে কোনো বার্তা কি পৌঁছে গেছে যৌবনের দোরগোড়ায়? অথবা এ নেহাতই উড়ো মেঘের বিভ্রম। দোকান থেকে একটা মুখোশ তুলে নিয়ে ছুটে আসে আমার দিকে। আমাকে পরিয়েই ছাড়ল হ্যালুইনের ভূতমুখোশ। আর সে নিজে আপাদমস্তক ভূতের পোশাকে নাচানাচি শুরু করল। হয় তো এভাবেই ভুলে যেতে চাইল বন্ধু জিয়াকে। আলখাল্লা পরেই ডেন্টিস্টের মুখোমুখি চেয়ারে শরীর এলিয়ে দিল পাগলি মেয়ে। খানিক পরে মা ও বাবার সাথে ডাক্তারের চেম্বার ছেড়ে সে লনে নেমে আসে। আকাশে দু-হাত তুলে উল্লাসে নেচে ওঠে। হ্যালুইনের আলখাল্লা পরা একটি মেয়েকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অনেকেই ফিরে তাকায়। আমি দেখি ব্রেসমুক্ত দাঁতের উজ্জ্বল হাসি। সে বন্ধন মুক্তির খুশিতে প্রায় কেঁদে ফেলে। এতো বছর পরে আমি দাঁত দিয়ে ভাঙতে পারব কাঠবাদাম। মুরারিপুরে গেলে চিবিয়ে খেতে পারব আখ। শরীরের জন্য দাঁত, দেশের জন্য গণতন্ত্র। সযত্নে রক্ষা করতে হবে দুটোই।

বিমল গুহ

 

বিবেক জাগ্রত হলে

বিমল গুহ



ভোরের আকাশ দেখে পৃথিবীর প্রথম মানুষ | স্থির, নিষ্পলক দৃষ্টিহীন প্রাণ!
প্রতি ভােরে সূর্য ওঠে- আলোর স্ফুলিঙ্গ কাঁপে দূরে,
মধ্যরাতে তারা জ্বলে চোখের পর্দায়
আমরাও পথ খুঁজি আপন আলোয় দিনভর, খুঁজে পাই
অন্ধকার ভেদ-করা অন্য এক আলোর সকাল
একজন নুসরাত এসে আলো হাতে দাঁড়ায় সম্মুখে
চেনাপথ তখনও অচেনা আমাদের!

বিবেক জাগ্রত হলে অন্ধকারে আলো ফোটে
চোখের তারায়, বিবেক জাগ্রত হলে
পঙ্গুত্বও বাধা নয় আর ।
পঙ্গুত্বকে তুড়ি মেরে স্টিফেন হকিংস্ দেখে
কৃষ্ণ গহ্বরের প্রান্তে নতুন আলোর রঙ-রেখা!
বিবেক জাগ্রত হলে দুনিয়া কাঁপিয়ে লহমায়
আকাশের সিড়িপথে ঠাই পায় নিষ্কলুষ প্রাণ
আমাদের হাজার সন্তান, হাজার নুসরাত ।

বিবেক জাগ্রত হলে - একদিন
আঁধারের সীমানা পেরিয়ে - মানুষ কেবল দেখে
আলোর আকাশ ভেদহীন সীমারেখা হীন !


তন্ময় ধর



দিল্লিতে তিন দিন

তন্ময় ধর


১।

ফ্লাইওভারের বয়স তোমার আলজিভ আঁকড়ে ধরেছে
দেহতত্ত্বের এক চন্দ্রগহ্বর থেকে প্রলয়ের জলের হিসেব দিতে গিয়ে
ঈশা খাঁর সমাধির তীব্র লাল হুইস্পার, ঈশাবাস্যমিদং
স্মৃতিহীন ধনেশ পাখির ডিম ভেঙে ফেলে
পরাজিত লোদী রোড, স্তব্ধতা, আলো,
ভিজে ওঠা জলের বিম্বে, মাংসে, অভিনয়ে
থেমে থাকে, নক্ষত্রের নোনতায় সময় গড়ায়
ফেনা ভাঙে, ট্রাঙ্কুইলিজারে ঘন মদিরার শো-অফ
আদিম পায়ের নখে ঘুম হয়ে আসে

২।

ফ্রুটজ্যুসের স্বচ্ছতার বয়স থেকে তুমি টেনে তোল
নৈরাত্মার দেহবোধ, আঁশ, ব্লাডার, ঈশ্বরের অধৈর্য্য কঙ্কাল
এক নক্ষত্র থেকে অন্য নক্ষত্রে
চুঁইয়ে পড়ছে গ্রাসনালীর অন্ধকার
আস্তে আস্তে এশারের ছবির মত হয়ে উঠছে উড়ন্ত শঙ্খচিল
ম্যাজিকের শব্দে কেউ স্নান করছে গোপনে
পেটের মাংসে লিটল মার্মেডের রূপকথায়
তোমার আত্মাভিমানের মদ থেকে একের পর এক উঠে যাচ্ছে বুদবুদ
বাবল্‌- বাবল্‌ গাম, শাব-এ-গম্‌ মুঝসে মিলকর আইসে রোয়ি
য্যায়সে মিলা হো শদিঁও বাদ কোই

৩।

আরো প্রাচীন এক রামলীলা পিছলে যায়
আমার জাতিস্মর ভূগোলের ঠিক মাঝখানে

রক্তাল্প তীরধনুক থেকে সরে যায় আদিম মাছ
ভ্রম মনে হয়,
গোলাপী তীব্র ব্লাডার ও গহীন যমুনার কুহক থেকে
বার্গম্যানের অন্ধকার ক্যামেরা সরাতে সরাতে
আমি ধাক্কা খাই, স্মৃতিহীন এক যৌনতায়
অচেনা গর্ভদুয়ার ও আকাশে
পায়েস রেঁধেই চলেছো তুমি
সোনার সীতায় চিনি মিশছে না

নভেরা হোসেন

 

মন খারাপ

নভেরা হোসেন


বহুদিন ধরে তোমার মন খারাপ
আগে রাতে ঘুম না হলে
সারারাত জানালা দিয়ে আকাশ দেখা
নয়তো গভীর সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে
অন্য কোনো পৃথিবীতে
অন্য কোনো গ্যালাক্সিতে
সেখানে মাছ আর পাখিরা আকাশে  খেলা করে

এখন শুধুই ওষুধের কৌটা খোঁজা
সারাদিন পথে পথে হেঁটে
সারারাত নির্ঘুম 
তবু তোমার মন খারাপ কাটেনা
বিষাদ সিন্ধু শেষ করে ডলু নদীর হাওয়া , 
শহীদুল জহির এখন নৌকাতে
তারও ভীষণ মন খারাপ
আগে মন খারাপ হলে  মরে  যেতে ইচ্ছে করতো
এখন কেন  মরে  যাবে সেজন্য মন খারাপ
শহীদুল জহির পুরান ঢাকার ডালপট্টিতে
সেখানে সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ , ফরিদ কবির চা খাচ্ছে
সৈয়দ  তারিককেও দেখা যাচ্ছে মালিবাগ রেল লাইনের  দিকে
তখন ছেলেরা পেথেডিন নিতো
আর ডাইল খেয়ে কড়া  চিনি দিয়ে চা খেত
এখনো এসব চলে তবে বেশি চলে ইয়াবা
পাবলিক - লাইব্রেরির চিপায় লাইন লেগে থাকতো
একজন বের হলে অন্যজন
ম্যাক্স খেয়ে কয়েকজন চোখে সব উল্টা দেখতো
এসব ভাবতে ভাবতে তুমি মন খারাপের রাজ্য থেকে
বেরিয়ে বসুন্ধরা শপিং মল
সেখানে ফুডকোর্টে মেক্সিকান ফুড , লেবানিজ শর্মা
এসব খেতে খেতে ক্লান্ত  হয়ে গেলে
ঘুরতে ঘুরতে বইমেলা
সেখানে ঔপন্যাসিক মাসরুর আরেফিন
সে লিখেছে আগস্ট আবছায়া
লোকজন ভাবছে শেখ মুজিবকে নিয়ে লেখা বই
মাসরুর যতই বলছে এর মধ্যে আছে ফুয়েন্তেস , মার্কেজ , বোর্হেস
ট্যাক্সি ড্রাইভার আয়ার যে চব্বিশ  ঘন্টার মধ্যে দুই ঘন্টা ঘুমায়
কে কার কথা শোনে -
মাথায় একবার কিছু ঢুকে গেলে সিলগালা হয়ে  যায়
একবার আর্ট কলেজের লিটু বলেছিলো
ভাল্লাগেনাও আর ভাল্লাগে না
তুমি ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে নিলে শিনার মাংস
ইলেক্ট্রিক্যাল ওভেনে বার্বিকিউ হবে
সাথে পার্সলি  পাতার সালাদ
যদিও রেড মিট বহুদিন নিষেধ
কিন্তু কে যেন বলেছিলো
ওসব ফালতু কথা
সারা জীবন জিরোক্যাল খেয়ে
শেষে লিভার সিরোসিস হয়ে সব শেষ
ফান  -টান  করে দিনগুলো পার করে দাও
শামীম কবীর চব্বিশে   ভাবলো নাথিংনেসের কথা
এখন ওর বন্ধুরা রোজ সকালে ভদকায়  ডুবিয়ে বনরুটি খায়
আর একেকজন কচ্ছপের মতো আয়ু নিয়ে
ঘাপটি মেরে আছে সুড়ঙ্গের ভেতর 
এখানে সবার পথ আলাদা
কেউ সুতা দিয়ে কাঠ কাটছে
কেউ প্রেমিকের মাথায় কাঁটার  মুকুট পড়িয়ে উড়াচ্ছে নারীবাদের ঝান্ডা
কতোকাল পর বরফ গলা নদী-
মাহমুদ এখনো স্বপ্ন দেখে
একদিন বিপ্লব  আসবে
যারা কুকুরের মতো দালান চাপা পরে মারা গেলো
তাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ  নেবে সময়
কালের নিয়তি নয় যেন এক প্রকান্ড ঝড়
দুমড়ে -মুচড়ে দেবে  সভ্যতার   হিংস্র দাঁত
হাজার হাজার বছর ধরে তৈরী হয়েছে  যে লাঞ্ছনার   ঘেঁটো
তা কখনো চিরকাল রয়ে যেতে পারে না
একজন মানুষ দিনে দু -ঘন্টা ঘুমিয়ে
কেমন করে বেঁচে থাকে ?
জীবনানন্দ দাসও আর এই বাংলায় ফিরতে চান না
যেখানে শুধুই ভাগাড়
শিকের উল্টো পাশে গাঁথা মানুষ

পাকিস্তানিদের প্রেতাত্মারাও কখনো ফিরে আসতে চায় না
এই  জল্লাদখানায়  -
মানুষ যুদ্ধ  করে কখনো স্বাধীনতার জন্য
কখনো খাবারের  জন্য
কখনো তেলের জন্য
তুমি আজ কোন বদ্ধভূমিতে ?
ওখানে কি নীল স্থল-পদ্ম ফোঁটে
তোমার মন খারাপের কি কোনো শেষ আছে
বসন্তের বাতাস বইছে চারপাশে
সেখানেও একরাশ   ধুলো এসে
তোমার চোখকে ঢেকে দিলো
যা কিছু সত্য তুমি আর তা দেখতে চাও না
একটা ত্রিশঙ্কু ভঙ্গি
এই কি  বাস্তবের   অপর   নাম ?



পোকা


পোকার জীবন
একটা দুটো পাতা উড়ে যায়
হাতে বলিরেখা
চৈত্রের বৃষ্টিতে তোমার মন উন্মনা
পুরানো দিনের কথা ভাবছো
প্রেমিকের আদ্র চোখ
দীঘির জলে তৃতীয় নয়ন
যখন জানতে পারলে সব শূন্য
তখনও অবিরল বর্ষার জল
জীবনটা বেশ পদ্যময় ছিল
দিন দিন জটিল প্রবন্ধে পরিণত হলো
এখন কেউ এসব নিয়ে ভাবে না
ভালো একটা চাকরি , আধুনিক ফ্ল্যাট , প্রিমিও গাড়ি
উইকেন্ডে নতুন রেস্তোরাঁ , বছর শেষে য়ুরোপের ডায়েরি
এখন আমরা বেশ আন্তর্জাতিক হয়ে গেছি
ইচ্ছে করলেই ইন্ডিয়া , নেপাল , ইতালি 
পাতায়া সমুদ্রের পাড়
ডিনারে সি ফুড ,  লিকার
তোমার টেস্ট বদলে গেছে
কবিতা এখন পানসে লাগে
ট্যাবে দু একটা স্ট্যাটাস পড়ে ঘুমাতে যাও
ঘুমের মধ্যে শৈবাল হ্রদ , মঙ্গলের গিরিখাদ
শহরটা বেশ ঝকঝকে হয়ে উঠছে
সন্ধ্যার পর রেস্তোরাঁর আলো জ্বলতে শুরু করে
পানশালায় লোকের ভিড়
 হিজাব পড়া  নারীরা গাড়ি চালাচ্ছে
আরবীয় সংস্কৃতি তোমার ঘরে
শর্মা তোমার প্রিয় খাদ্য , পাস্তা  , গ্রিল চিকেন.. 
কেউ যেমন সারারাত বোমা বানিয়ে কাটাচ্ছে
অনেকে ছবি এঁকে
অনেকে তজবি গুনে
একেই বলে ইকুইলিব্রিয়াম
ওয়াইনের সাথে আরবীয় বাদাম
মাছের সাথে মেক্সিকান রুটি
দিন দিন তুমি সর্ববাদী হয়ে উঠছে
তোমার শরীর আজ পোকার অভয়স্হল  





পার্টিশান


তোমাকে বহুদিন দেখি না
সেবারে যখন মন্বন্তর দেখা দিলো
তখন তুমি বেশ তাগড়া জোয়ান
জাপানে বোমা পড়লো
আর চালের দাম বাড়লো
ব্রাহ্মণরা পর্যন্ত আধপেটা খেয়ে
ওলাওঠা গ্রামকে গ্রাম ধ্বংস করে দিলো
তারপর কেমন কেমন করে যুদ্ধ থেমে গেলো
বড় বড় সব চুক্তি হলো
এদেশের সীমানা ওদেশের হয়ে গেলো
অবরোধ চললো বহুদিন
একটা আস্ত দেশ ভেঙে দু-টুকরো হয়ে গেলো ..
নেতারা চাইলো রক্তপাতহীন পার্টিশান
হলো তার উল্টোটা
দলে দলে হিন্দুর গলা কাটলো মুসলমানেরা
আর মুসলমানদের রক্তগঙ্গা বয়ে গেলো
পেশোয়ার এক্সপ্রেস ফিরে এলো লাশের মিছিল নিয়ে
এসব এখন গবেষণার বিষয়বস্তু
বুদ্ধিজীবীরা দেশভাগের নাড়ি-নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা করছেন
সাব-অল্টার্নরা এতো রক্তপাতের কারণ খুঁজছেন
এসব তো গেলো অনেক আগের কথা
তারপর ২৬ মার্চ , স্বাধীনতা ঘোষণা
আবারো শত শত হত্যাকাণ্ড, রক্তের বন্যা ...
ক্যান্টনমেন্ট থেকে ক্ষমতা এখন বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত
এখন তো নতুন নতুন কথা হচ্ছে
ডিজিটাল বাংলাদেশ, রোবটের দুনিয়া
তুমি তার মধ্যেও অগ্রহায়ণের ভোরে লাঙ্গল কাঁধে নিয়ে ক্ষেতে যাচ্ছ
সেখানে নতুন ধান কাটা শেষে আলু বুনছো
হাতের আঙুলে কড়া পড়ে গেছে
তোমারও স্মার্ট কার্ড হয়েছে
চোখের আইরিশ দেখে বলে দেয়া যাবে তুমি জঙ্গি না ফেরারি
এখন তোমার বয়স হয়েছে
চোখে ভালো দেখতে পাও না
হাতে লাঠি নিয়ে বাড়ির দাওয়ায় দিন-রাত বসে থাকো
পুকুরের ধারে বকুল গাছ থেকে ফুলের গন্ধ ভেসে আসে
ইচ্ছে করে পাখির মতো ডানায় ভর করে উড়ে বেড়াতে
এখন আর সারসের দেখা পাওয়া যায় না
তুমিও নিজের জন্য মাটি খুঁড়ছো
তিন হাত জমি খোঁড়া কত যে কঠিন !



সূচীপত্র

সম্পাদকীয় দেহ্‌লিজের চতুর্থ সংখ্যা প্রকাশ হলো অনুবাদ Agni Roy ...