Showing posts with label পীযুষকান্তি বিশ্বাস. Show all posts
Showing posts with label পীযুষকান্তি বিশ্বাস. Show all posts

Sunday, May 26, 2019

দেহ্‌লিজের চতুর্থ সংখ্যা প্রকাশ হলো


পীযূষকান্তি বিশ্বাস



দেহ্‌লিজের চতুর্থ সংখ্যা প্রকাশ হলো । যতটা না ছিলো গুটি গুটি পা, নিন্দুকের চোখে বন্দুক রেখে ততটাই রুখে দাঁড়ায় বারুদবরণ আরবল্লি রিজ । ওখানে গ্রীষ্ম, ওখানে বর্ষা । ওখানে সাতচল্লিশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড । তবুও পত্রে পত্রে সবুজের প্রজ্বলিত আভা, কণ্টকময় বৃক্ষের রুক্ষ প্রশাখায় নীড় বাঁধে তবুও বিহঙ্গ - সযত্নে ডিম পাড়ে , যারা নিজেরাই কোন একসময় ঘুমন্ত ছিলো উক্ত ডিমের ভিতরে । অভিভাবকহীন বেড়ে ওঠা এই সাহিত্যপত্র ।  মালিকানাহীন বঞ্জর পানিপথে যখন যমুনা ছুটেছে একলা, কোন আফগানী শেরশাহ এইসব বৃক্ষের গায়ে এঁকে দিলেন শিলমোহর । গ্র্যাডিয়েন্ট বরাবর ক্রমশ ছুটে যাওয়া সমগ্র মুঘল বাহিনী, ধুলোয় ভরে ওঠা মেহরাম-নগর । অস্পষ্ট হয়ে আসে দিল্লির শতাব্দী পুরানো খাপ । চারিদিকে আকাশচুম্বী বাড়ি, ব্যস্ত সড়কে বেড়ে ওঠা গতিবেগের প্রতিযোগিতা,  জমি দখলের লড়াই ।   এর ভিতর জন্ম নিলো দেহ্‌লিজ, যার নিজস্ব শরীর দিয়ে তৈরি নিজেরই তোরণ, যার নিজস্ব গতি দিয়ে সামান্য এই সাহিত্য যাত্রা  । যে কেউ আরোহী এর হতে পারেন, যে কেও সারথী । এই পুরানো ইটের চাতাল, এই রুক্ষ প্রেমের বুদ্ধ-জয়ন্তী পার্ক,  আবহাওয়ায় কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিয়ে দেহ্‌লিজের সহবস্থান ।  যে কেউ হতে পারেন দেহ্‌লিজ । দেহ্‌লিজ মানে সারভাইভ্যাল, ভৌগলিক চেতনার অভিপ্রকাশ,  দেহ্‌লিজ মানে সবুজের হাতছানি, মুহূর্তযাপনের নাগরিক চিত্রকল্প, র‍্যাটরেসের প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে বেরোনো ব্যাঘ্র শাবক ।



দিল্লির সাহিত্য জগত বলে নানান বিভ্রান্তি আছে । দিল্লির বাংলা সাহিত্য নিয়ে আরো বিভ্রান্তি । সাহিত্যে ভাষার এটাচ করা যায় না । নাকি যায় ? সাহিত্যে শহরও এটাচ করা যায় না । নাকি যায় ? কত কিছুই তো করা যায় না । কেউ কেউ বলছে যায় ।  খাণ্ডবদাহে যখন পুড়ে যাওয়া জঙ্গল একটা বিশ্বাস মাত্র । ইন্দ্রপ্রস্থ একটা বিশ্বাস । কি বলছেন , বিশ্বাস তো । সেই রকম  বিন্দু বিন্দু রেখা একটা বিশ্বাস, দ্রাঘিমা একটা বিশ্বাস । সময় ? সময় তো একটা বিশ্বাস !  সময় অনেক কিছু বদলে দেয়, সময় অনেক কিছু নির্ধারণ করে । দুটি সংখ্যা প্রকাশ হবার পরে যারা চিল চিতকার করে বলছিলো, দেহ্‌লিজ টিকবে না । দিল্লির সাহিত্যপিপাসু জনতা নিজেরাই নিজেদের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলো । মাথার উপর একটা টুপি পেয়েই যাদের ধ্যান ধারনা ছিলো এটাই একমাত্র আচ্ছাদন, তারা জানতেই পারেনি যে তাদের মাথার উপর একটা ছাতার প্রয়োজন । পঞ্চাশ বছর ধরে তারা টুপি পরে আসছেন । টুপি পরে তারা আয়নার দিয়ে তাকাচ্ছেন, আহ্লাদিত হচ্ছেন ।  টুপি তাদের বড়ই প্রিয়, টুপি যারা পরাচ্ছেন, তাদেরকে ওরা জয়ধ্বনি করছেন ।



যে কোন শহরের এই চরিত্র হতে পারে । গ্রাম কেটে শহরে পাড়ি দেন জনপ্রবাহ ।  শহরের নিজের কোন নন্দন-তত্ব থাকে না । আপাত দৃষ্টিতে, তার কোন ব্যথা, দুঃখ, বিষাদ নেই । তার চোখে এক উদাসীনতা, তার অধরে এক ধুসর জগতের শুষ্কতা , যার চোখের পাতায় পাতায় এক ক্রমবিকাশের রক্তক্ষরন । তার কান্না নাই । আগুনে ঝলসে ওঠে লাল কোট, পানিপথের বুকে দ্রুত শুকোতে থাকা যমুনা , কোন সম্রাট জাহাঙ্গীর বুঝি তার বজরা নিয়ে পৌঁছাবেন না কালিন্দিকুঞ্জের ঘাটে । আগুন নিয়ে খেলতে থাকেন আজকের শিশু, আবহাওয়ায় জ্বলতে থাকে দেওয়ান-ই-আম, দেওয়ান-ই-খাস । দিল্লির পথে পথে পড়ে আছে সেই ইতিহাস চিহ্ন, রাজঘাটে সমাধি হয়ে জ্বলতে থাকেন মোহন দাস করমচাঁদ গান্ধী ।  


কি গল্প হবে  ? কাহিনীর বিপরীতে চাইতো এক খলনায়ক । যার অভিঘাতে রাখা হবে একটি তরমুজ কাটার আখ্যান । সর্বহারার সার্বভৌমতা ।  কোমল ভাবে মিশিয়ে দেওয়া হবে কড়ি,  শৈশবের অপূর্ণ অভিলাষ, কৈশোরের প্রেম নিবেদনের ব্যর্থতা, যৌবনের বাংলা , মধ্যমেধার বাঙ্গালি ও বিষয় বিবেচনায় সমাজসেবা ।  হায় ! সেই রামও নাই , সেই রাবণ ও । ইংরাজ বিদায় নিয়েছে, তাই সেই স্লোগানও আর নাই । হায় থ্যানোস - কি লিখি তোমায় ?  গ্যালাক্সির অর্ধ জনসংখ্যার আচমকা হ্রাস কোন কাব্যরস হতে পারে না ।  কোন রূপ রস গন্ধ হতে পারে না । কাব্যকথার জন্য যা চরমভাবে প্রয়োজনীয় । যদি ধরা হয়, আর ২৮ কোটি বাঙালি, অর্ধ জনসংখ্যা ১৪ কোটি । যাদেরকে আমরা ধরে নিতে পারি যে, তাদের কাছে একটি স্মার্ট ফোন আছে । মানে, প্রত্যেকের কাছে একটি একটি ফেসবুক অ্যাপলিকেশন রয়েছে । এইমতো অবস্থায়, প্রত্যেক ফোনের মালিক হবেন একজন বাংলা সাহিত্যের পাঠক । এবং  সে একটি গল্প চায় ।


এইভাবে দেহ্‌লিজে গল্প ফিরে আসে । দেহ্‌লিজ একটি ওয়েব ম্যাগাজিন ।  ওয়েব পালটে ফেলছে জালবপনের সীমানা । ক্রিয়েটিভ লেখনীর ভৌগলিক চরিত্র মাল্টিপ্লাই করছে ভাইরাসের গতিতে । দেহ্‌লিজ সেখানে চাইছে, নিজস্ব পরিচয় । নিজের রক্তের ভিতর ঘুরতে থাকা এক বিশ্ব । নিজের আবর্তনে বুঝে নিতে চায় অস্তিত্ব । যেভাবে দিল্লি ফিরে আসে গল্পে । সহস্রবছরের দিল্লি, খাণ্ডবদাহের আগুনখেলা, ময়দানবের ইন্দ্রপ্রস্থ,  অনঙ্গপালের লাল-কোট, চৌহান রাজের রাই কিলা পিথোরা । ইলতুতমিসের কুতুবমিনার । শূন্যকালের পরে যদিও কোন কাল থাকে না । গল্প তো এক প্রবহমান । না আশীর্বাদ, না অভিশাপ । মহানগরীর চরিত্রে এক নাটক বদল । দেহ্‌লিজ স্ট্যান্স নেয় সেই ব্যস্ত বাজারে । রাজপথে ওলা, উবের, সি এন জি অটোদের ভিড় । প্রেস কর্নারে চুটিয়ে চলছে রাজধানীর রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা , দিল্লি হাটে বিদেশী পসরার বিকিকিনি ।  দিল্লি হাটার্সদের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে তরুণ প্রজন্মের দেহ্‌লিজ ।



দিল্লি এক অদ্ভুত শহর । লাল কিলার পাথর ছুঁয়ে দেখি - এক ইতিহাসের মর্মরধ্বনি । দিল্লির সেই গল্পের কোন ঘাটতি নেই ।  দেহ্‌লিজের কাছে তার এই প্রার্থনা , দিল্লির নিজস্ব চরিত্র, রূপ, রং, পান, পিক, দেওয়াল, অট্টালিকা এই হোক তার সাহিত্য অনুষঙ্গ । যে রক্ত এতদিন ধুয়েছে গঙ্গা অববাহিকার বিন্দু জল, তাতে মিশে যাক যমুনার কালো । যাকে আমরা মঞ্জিল বলে মানিনি, যাকে আমরা ভাগ্য বলে গ্রহণ করিনি, অথচ খাদ্য বস্ত্রের সন্ধানে মাইগ্রেশন করে আমাদের পার করে আসতে হয়েছে শোন, সরযূ ফল্গু ।  এই এত দূর, দিল্লি দিলওয়ালোঁ কা শেহ্‌র । আমাদের রক্তে ক্রমশ প্রবেশ করছে - সারভাইভাল, আমাদের রক্তে মিশে যাচ্ছে বিজাতীয় জাতীয়তাবোধ । মননে, চিন্তনে রং ধরেছে দিল্লির ধূসরতা,  চেতনায় ফুটে উঠেছে ইন্দ্রপ্রস্থের সবুজ । দেহ্‌লিজ চায় তাদের একাত্ম করতে । যে কোন পরবাসে অবশ্যম্ভাবী দেওয়াললিখনকে গ্রহণ করার নাম ভাগ্য, আর তাকে ভালোবাসে আপন করে নেওয়ার নাম দেহ্‌লিজ ।  সাহিত্য ধারনার এই ভঙ্গুর কিনারায় বসে আমরা দেখতে চাই তার ঐতিহাসিক উত্তরণ ।   





Courtesy: 
All pictures are fusion work, consisting... Belgian Surrealist artist René Magritte's (1898 - 1967) paintings and Delhi's archeological photographs

DEHLIJ.COM a web magazine run by the group of poets from New Delhi. The credits are affiliated to Bengali, Hindi and English poets from this subcontinent. 

Contacts :
Email : poet.area@gmail.com
Phone : +91 9871603930 (Pijush Biswas)
Phone : +91 8800321505 (Monali Roy)
WhatsApp: https://chat.whatsapp.com/KC7rlh3e6vi2y9sHuj6rhZ
Website: https://www.dehlij.com




Friday, May 24, 2019

পীযূষকান্তি বিশ্বাস


চুড়ি টুটি



এইখানে লাঙলের পয়া বরাবর লাল ঠোটের ধবল বক,
আলের পাশে
চাষবাস যখন অযান্ত্রিক বৈদিক প্রাচীন
আকাশের থেকে উঁকিঝুঁকি দিলে পাপ্পানকালান
এই চানা ক্ষেত জুড়ে জোরাজুরি
রাধিকা ক্রমশ আসে এই একবিংশ শতাব্দীর
চুড়িটুটির মাঠ, এই ক্ষেত খামার জুড়ে এতটা কঙ্কর
লাল, ঝামা, রেত মিলে দেওয়াল উঠে গেলে আকাশচুম্বী
সদ্য পেরোনো সোলাংকী কন্যা পিঠে বেণী দুলিয়ে
দক্ষিণ দিশা বরাবর টেক-অফ করে যাওয়া ইন্ডিগো-বোয়িং দেখে
হলুদ রাই ক্ষেতের দিকে তার নিঃসংকোচ চুন্নি উড়ে যায়

এই সময় বয়স হলো যখন স্কুল যাবার, দমদমা লেক
পাখিদের আনাগোনা
উড়ে যেতে চাওয়া হাওয়া আর ললনার সদ্য বুকে জমে ওঠা সৌরভ
অথচ এই বর্ষার দিনে বর্ষা নাই
ঋতুর আগমন দিয়ে তেল দিক সরষে
নাগরিক জীবনের ক্লেদ ঘাম নিয়ে ঈষৎ লবণাক্ত ছোলার ক্ষেত
অপেক্ষারত জাঠ যুবক দিল্লির এক কড়ক লন্ডা
যার উপর দিয়ে ফাইবার অপটিক্সের কেবল
যার মধ্য দিয়ে অন্তর্জাতের আই পি প্যাকেট
যার  ভিতরে গুমটে রয়েছে সাইবার ভিডিও
যার দৃশ্যে রয়েছে পর্ণগ্রাফির কামশট
দ্বারকা সম্পূর্ণ পুনর্বাসন হবার ঈষৎ পরেই
গুটিকয় হোমো-সেপিইয়েনসদের আচমকাই মনে হলো
মাসকলাইয়ের লতানো গাছে আটকে গেছে নাবালিকা
রাধিকা সোলাংকীর ব্যবহৃত ছিন্নভিন্ন রেশম অন্তর্বাস


এতটাও তো স্বনির্ভর নয় এই জিন্দেগী
গল্পাশ্রয়ী এই মুকুন্দ ভিলায় পড়ে যায়
অন্য ভাষার অন্য কবিতা
রাস্তা, ইট, নালা ছাড়া এই ভিরানায় কবি কে বা
কংক্রিটের চাতাল ফাটিয়ে মহানিম ছাড়ায় যে ডালপালা
এই আঁধার ঘনিয়ে আসে শস্যখেত জুড়ে 
এই পাপ্পানকালানের শেষ নাগরিক হেটে যাওয়া অব্দি
দ্বারকার শেষ শস্য ঘরে যাওয়া অব্দি
সেক্টর আট থেকে সেক্টর বিশ
এক এপার্টমেন্ট থেকে অন্য এপার্টমেন্ট
মানুষের মাপে এই পৃথিবী দৈর্ঘ্য মেপে যাই
মানুষের মাপে এই পৃথিবী প্রস্থ মেপে যাই
মানুষ আর শস্যের দংগলে
মানচিত্রে বারবার বদলে আসে রং, রেখা, কনট্যুর
জন্ম থেকে জন্মে ঘিরে ফেলেছে নির্বাক চিত্রকল্প

শতজন্মের ভিতর থাকে যে সব অন্যরকম বলা
অন্যরকম ভাষার নতুন নদীমাঠ
সেই ধানিজমি, টিয়া পাখির ঝাঁক, ছোলার ক্ষেতের উপর
রাধিকা কোনদিন বিবাহযোগ্যার মত পূর্ণযৌবনা হবে
তার হাতে লাল লাল চুড়ি,
তার পরনে হালকা পাড়ে নীল শাড়ি
অথচ সে আজ কোন সোলাংকী ললনা
বারবার দেবরাজ বধূর মত কোন লাজুক
যে যেদিকে পারে আগুন হয়ে ওঠে
যে যেদিকে পারে মাঠ পুড়ে যায় অনর্গল
পুড়ছে  প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসা কোন রাই ক্ষেত হলুদ
ফ্ল্যাটবাড়িকে ছেড়ে দিয়ে ছাই হয়ে যাওয়া গাঁও
এই নগরীর আষ্টেপৃষ্ঠে মানুষের শৃঙ্খল,
যান্ত্রিক গল্পের সংরক্ষণে এই নগরীর পরিখায়
মৃত কোন সাতভাইদের হাড় কংকাল
কোন পারুল বোন বুঝি আর তাদের ডাকতে এলো না

এতটাই কি ছিলো তোমাদের এই মেরুন প্রিয়তা
কবিতার বইয়ের প্রচ্ছদের মতো সেজে উঠেছে প্রপার্টি ডিলার 
হরিৎ গমের ক্ষেতের উপর জোড়া শালিকের সংগম
তোমাদের অসহ্য মনে হলো
সবুজকে নিশ্চিহ্ন করে ইটের ইমারত
কোঠাবাড়ি, সুরম্য অট্টালিকা, হাইরাইজ ফ্লাটস
কাতারে কাতারে উৎপাদিত মানুষ আর শস্য
মানুষের পণ্য নিয়ে মানুষ বিক্রি করে মকান ডট কম,
মানুষ ইট হয়,
মানুষ চুন হয়,
মানুষ ইটালিয়ান মার্বেল
বৃদ্ধ সোলাংকীর মাংস, ঘাম, পুঁজ  লাশ পচে গেলে মিশিয়ে মাটিতে
উর্বর হয়ে ওঠে ল্যাটেরাইট
এই বর্ষা চলে গেলো, কোন বারীষ নেই
মানুষকে খাচ্ছে আজ লতানো বীরুত
অথচ
যে কোন সবুজের চেয়ে আর মাংসাশী মানুষের উৎপাদন বেশী

তবু যদি দেখো, গল্পের শুরু
তার চলন, বাঁকা বা স্পীড ব্রেকার
এই এক রৈখিক হাইওয়ের মত কোন যাত্রা
রাস্তার ঝাঁকুনি নিয়ে চালকের মনে সংশয়
কবির মনে বসে থাকা কোন চেতনায় তার সিনট্যাক্স ভেঙে যায়
কলাই থেকে চুড়ি ভেঙে যায়
সদ্য কৈশোর পেরোনো রাধিকা স্কুলে যায় সবুজ সালোয়ার কামিজে
তার সদ্য বুঝি আর পেরোয় না
তার সদ্য থামিয়ে দিয়েছে এই মে জুনের দিল্লি
এয়ারপোর্টের মেট্রো এই থমকে দাঁড়ালো ,
লো-রাইড বাস এই রুখকে
মানুষ আর কংকাল নিয়ে সমগ্র দ্বারকা
চারিদিকে ঘিরে আসে গম কেটে আগুন লাগানো ধোঁয়া
দূষিত নিঃশ্বাস-সহ দ্বারকা সেক্টর ওয়ান এক্সটেনশন
পালাম ফ্লাইওভারে সমগ্র ট্রাফিক আজ থমকে দাঁড়িয়ে...


এইখানে ফিরে আসা মানে,
ধনুকে ফিরে আসা তীর
লিখে ফেলা কবিতা থেকে চেতনা আলাদা করা
কবিকে মানুষ থেকে
মানুষকে কবিতার থেকে দূর
দ্বারকা এমন এক নগরী, যার কোন ফিরে আসা নেই
পিচের সড়ক থেকে ছোলার সবুজ ক্ষেত
এও তো যাত্রা
যার যদিও কোন ট্রেল নেই, সুতরাং
নাল এন্ড ভয়েড
কোন সদ্য বিধবা রাধিকার চুড়ি ভাঙ্গার পর
চুড়িটুটির এই মাঠে একটা কিংফিশার বোয়িং ভেঙে পড়লো বুঝি
এই কবিতা পাঠের নিমিত্তে 
দুপাতা সবুজ সহ কোন দূর্বাও বুঝি অবশিষ্ট নেই  !

Sunday, May 19, 2019

ঝর্না রহমান


পাঠকামি-২৬

পীযুষকান্তি বিশ্বাস


চন্দ্রদহন বইটা হাতে নিয়ে আমার চন্দ্রগ্রহণ মনে হয়েছিলো , বই খুলে কবিতাগুলো পড়ার সময় সেই ভূমিকা আর গতিপথ থেকে আমি সরে আসতে পারেনি । বইটা আগাগোড়া পড়লাম, একটা শিল্পকে কতটা যত্নে লেখা যায় । একটা দ্বন্দ্বের ভিতর দিয়ে এগোয়, ক্রমশ ইনটেনসিটি বাড়ে ।


বইঃ চন্দ্রদহন - কবি ঝর্না রহমান

এর ভাষা, চিত্রকল্প, ছন্দ সমস্তই সুকল্পিত, সুচিন্তিত, সুনির্মিত । একটা এক্সিলেন্সি বার বার মনে হয় । পাঠের মুহূর্তগুলি নানান কাব্যসত্যের কাছে এনে দাঁড় করায় । পাঠক আপনা বিম্বে দেখে নিতে থাকেন কবির ভিতরের গভীর অন্দরমহল ।

এই প্রথম তার কবিতা পড়লাম, এটা আমারই সীমাবদ্ধতা । বাংলা কবিতার ভুবনে এমন কত তে চন্দ্র নিজেকে দহন করে চলেছে, তাদের জ্যোৎস্না আমাদের কাছে পৌঁছায় না । আমাদেরও পৌঁছানো হয় না কোথাও । আমাকে ভালোবেসে লিখে দিলেন তিনি ঃ কবি  পীযূষ বিশ্বাসকে প্রীতিজনেষু - ঝর্না রহমান । ৬ অক্টোবর ২০১৮ ।



আমি মূলত একজন পাঠক, আমি 'কবি' হিসাবে কিছু করে উঠতে পেরেছি বলে মনে হয় না । তবু সম্মান করে আমাকে তিনি  'কবি' সম্বোধন করেন - আর আমি তার পাঠকামি লিখে চলি ।


একটা কবিতা পড়ি:


"ভিন গাঙে নয়া নদী ভাসমান ভানুমতী বেদের বহর

শহর হারানো পথ বেসামাল গ্রামীণার চোখের নিমিখ

পরিখার রেখা শেষে ডুব জলে চতুরালি কবির শালিখ

অলীক শস্যের দানা বীজ মন্ত্রে কোলাহল লাল গোলাঘর"


--কবিতা - চন্দ্রদহন ৩



আমি এতদিন দিল্লিতে যে ভৌগলিক অবস্থানের কথা বলে আসছি,  সাহিত্যের প্রতিটা ধারায় তার সুঘ্রাণ লেগে আছে । স্থানীয় বিশেষ্য, স্থানীয় উপমা, চিত্রকল্পনা একটা অজানায় যেন গা ছমছম করে । দিল্লিতে আমি কোনদিন (ধানের) গোলাঘর দেখি নাই । এই কবিতার যদি কবির হস্তাক্ষর খুঁজি,  যদি খুঁজে নিতে চাই তার শাখা প্রশাখা - এই এতোটা গ্রীষ্মেও আমি জানি সেই সমস্ত যাত্রাই চলে যাবে শিকড়ের সন্ধানে । বাংলাদেশে -  আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি ।



আর একটা কবিতা পড়ি ।


"জতুগৃহে শয্যাশায়ী অগ্নিসহা মৃতদেহ প্রাচীন নারীর

রমণীয় রাত্রিনীর পোশাকের মগ্নতায় আমার শরীর

ছিন্নভিন্ন প্রতিবার অধস্তন যৌবনের পূর্ণস্তনী চাঁদ

আমার প্রমিত দেহে সনাতন নারীদের বেদেহী আবাদ"

--কবিতা - চন্দ্রদহন ৩


কবিতাটা পড়ে এক আশ্চর্য অনুভব হয়, কবিকে কবিতার ভিতর মিশে যেতে দেখি । কবি এক নারী সত্ত্বা, নারীর সমস্ত কামনা নিয়ে সে এক জ্যোৎস্নাকে দাবী করে ।  যা তার প্রাপ্য আর যা সে প্রাপ্তি, তার ভিতর থাকে অনুল্লিখিত গ্যাপ । রিড বি-টুইন দ্য লাইন । কবি সেই গ্যাপ জানেন, পুড়ে যাওয়া চাঁদকে এমন অলংকারে বাঁধেন যেন আত্ম উপলব্ধি দেহের প্রতিটা কোষে কোষে প্রতিফলিত হয় ।

কাব্যরসের এই উত্তম খেলা নিরন্তর চলতে থাকে সম্পূর্ণ বইটি জুড়ে ।  এর ছন্দের জাদুই আলাদা । মাত্রা নিয়ে অপূর্ব কাজের নিদর্শন । আট-আট-ছয় ।  একটি পূর্ণ পাঠের অভিজ্ঞতা মনের মণিকোঠায় তুলে রাখি ।


ধন্যবাদ কবি ঝর্ণা রহমান । আপনি আমায় একটা পাঠের সুযোগ দিলেন । আপনার হাতকে বারবার এমন উত্তম কবিতাগুলো চুম্বন করে উঠুক ।



সূচীপত্র

সম্পাদকীয় দেহ্‌লিজের চতুর্থ সংখ্যা প্রকাশ হলো অনুবাদ Agni Roy ...